বিজয়ের মাস শুরু

untitled-22_23530বাঙালী জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এবং গৌরবোজ্জ্বল পাওয়া স্বাধীনতা। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবদীপ্ত সেই বিজয়ের মাস ডিসেম্বর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সময়ের পথ পরিক্রমায় আজ থেকে শুরু হলো সেই বিজয়ের মাসের পথচলা । এবারের ডিসেম্বর মাস উদযাপনের মধ্য দিয়ে বিজয়ের ৪৩ বছর পূর্ণ হবে। এ মাসেই জাতির বহু ত্যাগের ফসল হাজার বছরের স্বপ্ন পূরণ হয়। তবে এই মাসটি বাঙালী জীবনে যেমন অসীম আনন্দের, তেমনি পরম বেদনারও। কারণ, এ মাসেই ত্রিশ লাখ শহীদের জীবনদানের মাধ্যমে অর্জিত হয় বাঙালি জাতির সুদীর্ঘকালের আকাংখার স্বাধীনতা। তাছাড়া, ডিসেম্বর মাসেই চূড়ান্ত বিজয়ের দুই দিন আগে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি ও তাদের দোসর জামায়াত-শিবির এবং তাদের সৃষ্ট রাজাকার আলবদরদের হাতে শহীদ হন দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীরা। বিজয়ের আনন্দের পাশাপাশি সেই সব শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি এ মাসেই কৃতজ্ঞ জাতি শ্রদ্ধা জানাবে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মুক্তিযোদ্ধা, গেরিলা আর ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। এরই মধ্য দিয়ে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। আর জাতি অর্জন করে হাজার বছরের স্বপ্নের স্বাধীনতা। এর আগে বাঙালী জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের সোপান বেয়ে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ রেসকোর্স (বর্তমান পল্টন) ময়দানে জাতির অবিসংবাদিত নেতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ’ এ ঘোষণার পরপরই গোটা জাতি মুক্তিযুদ্ধের চূড়াস্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করে। ’৭১ এর ২৫ মার্চ কালো রাতে পাকিস্তানী জল্লাদ বাহিনী নিরস্ত্র জনগণের উপর অতর্কিতে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করে। বঙ্গবন্ধু একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে পাক বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হবার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং তার ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রহানির মধ্যদিয়ে ১৬ ডিসেম্বর জাতির চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। মহান এ বিজয়ের মাস উদযাপনে সরকারী ও বেসরকারীভাবে ব্যাপক কর্মসূচী পালিত হবে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পৃথকভাবে নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে সারাদেশে বিজয় উৎসব পালনের কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। জাতীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।(সংকলিত)

শেয়ার করুন