নিজের বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী

DSC_0227সিলেটের সকাল রিপোর্ট:নিজের বেফাঁস মন্তব্যের জন্য সিলেট প্রেসক্লাবে এসে ক্ষমা চাইলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় সিলেট প্রেসক্লাবে এসে তিনি সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা চান। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমার বক্তব্যের জন্য আপনারা মনো:ক্ষুন্ন হলে নিজগুণে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। ’ এ সময় তিনি বলেন, আমি নিজেও এক সময় বাংলাদেশ টাইমসের সাংবাদিক ছিলাম, কাজেই সাংবাদিকদের সাথে আমার বরাবরই সখ্যতা ছিল। তিনি বলেন, আসুন আমরা সবাই মিলে দেশ-জাতির জন্য কাজ করি। তিনি বিজয়ের মাসে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সাংবাদিকদের সাথে মিলিত হতে পারায় সংশ্লিষ্টদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন-সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।
অনুষ্ঠানে সিলেটের সিনিয়র সাংবাদিকবৃন্দ ও বিভিন্ন প্রতিনিধিত্বশীল জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গত ৯ আগস্ট সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আদিবাসী দিবস উপলক্ষে সিলেট বিভাগীয় আদিবাসী উদযাপন কমিটি এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী DSC_0230সাংবাদিকদের ‘খবিশ’ ও ‘চরিত্রহীন’ গালি দিয়ে তোপের মুখে পড়েন।
এ ধরণের মন্তব্যের পর অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করলে উপস্থিত সাংবাদিকেরা অনুষ্ঠান বয়কট করেন। এ সময় মিলনায়তনে হট্টগোল শুরু হয়। পরে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে মন্ত্রী বক্তৃতা শেষ করতে গিয়েও সাংবাদিকবিহীন মিলনায়তনে আবারও সাংবাদিকদের আক্রমন করে বক্তৃতা দেন।
সিলেট বিভাগীয় আদিবাসী উদযাপন কমিটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য তাঁকে আহবান করা মাত্র তিনি মাইক্রোফোনের সামনে এসে সাংবাদিকদের সরে যেতে বলেন। এ সময় তিনি ‘সর সর…’ বলেন। এক পর্যায়ে ‘তোমাদের মুখ দেখতে আসি নাই…’ বলে সাংবাদিকদের মাইক্রোফোনের সামনে থেকে ক্যামেরা নিয়ে চলে যেতে বলেন। সাংবাদিকেরা যা ইচ্ছে তাই লিখে জানিয়ে বলেন, ‘এরা কেউ জার্নালিজম পড়ে সাংবাদিক হয়নি। একমাত্র আমার মেয়ে জার্নালিজমে এমএ করেছে। আর এরা কলেজে ঘোরাঘুরি করে সাংবাদিক বনে গেছে।’
বক্তব্যের শুরুতে সাংবাদিকদের ছবি তুলে অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে যেতে বলে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘যতদিন দুনিয়া থাকবে ততোদিন ফজরের নামাজের পর মসজিদে কোরআন শরীফ পাঠ হবে। মাদরাসা শিক্ষায় আরবীর পাশাপাশি বাংলা-ইংরেজি শিক্ষা না দিলে তারা পিছিয়ে পড়বে। আমি একটি অনুষ্ঠানে এ রকম কথা বলেছিলাম, কিন্তু সাংবাদিকরা আমার বক্তব্য বিকৃত করে প্রকাশ করেছে।’
একটি জাতীয় দৈনিকের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ ওই পত্রিকা লিখেছে তারা আমাকে লাল পানি খাওয়াবে। আমি বলি একটা, তারা লিখে আরেকটা। আমার শ্বশুর বাড়ি সিলেটে। সাংবাদিকদের পেছনে সিলেটের মানুষ লেলিয়ে দিতে আমার সময় লাগবে না।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমার নেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ডেকে বলেছেন হাসানুল হক ইনু ১৪ দলের নেতা, আর তুমি আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা। সাংবাদিকরা যা ইচ্ছে লেখুক, তাতে কিছু যায় আসে না। তুমি চালিয়ে যাও।’
মন্ত্রী বক্তৃতার এক পর্যায়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে বলেন, ‘এরা সবটা খবিশ, চরিত্রহীন! স্বাধীন কমিশন হলে পরে দেখ নেবÑতোমরা (সাংবাদিকেরা) কতটুকু যেতে পার!’
‘খবিশ’ ও ‘চরিত্রহীন’ বলে মন্তব্য করার পর মিলনায়তনে উপস্থিত সাংবাদিকেরা প্রতিক্রয়া দেখান। সাংবাদিক গ্যালারিতে থাকা সকল সাংবাদিক নিরবে বের হয়ে যাওয়ার সময়ও তিনি খবিশ ও চরিত্রহীন বলে গালি দেন। এক পর্যায়ে সাংবাদিকেরাও তার ওপর চড়াও হলে মন্ত্রী বক্তৃতা বন্ধ করে নিরব থাকেন। তখন মিলনায়তজুড়ে হট্টগোল সৃষ্টি হলে মঞ্চে বসা জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও আদিবাসী নেতারা সাংবাদিকদের মিলনায়তন থেকে নিরবে বের হয়ে যেতে সহায়তা করেন।
সাংবাদিকেরা মিলনায়তন থেকে চলে যাওয়ার পাঁচ মিনিট বিরতি দিয়ে মন্ত্রী ফের মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়ান বক্তৃতা শেষ করতে। বক্তৃতা শেষ করতে গিয়ে ফের সাংবাদিকদের ভর্ৎসনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি যুদ্ধ করেছি, তাই তোমাদের (সাংবাদিক) বিরুদ্ধে বলার সাহস আছে। তোমাদের কার কী চরিত্র আমার জানা আছে। ডিএসবি দিয়ে চারিত্রিক ডাটা বের করতে সময় লাগবে না।’ এ কথা বলে মন্ত্রী বক্তৃতা শেষ করেন। পরে পুলিশ পাহারায় গাড়ি দিয়ে সার্কিট হাউসে চলে যান।
অনুষ্ঠান কাভার করতে যাওয়া সাংবাদিকেরা এর আগে জেলা পরিষদ মিলনায়তনের সামনে সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ করে পরে মিলনায়তন এলাকা ছেড়ে চলে যান। মন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর থেকে সিলেটের সাংবাদিকরা মন্ত্রীর অনুষ্ঠান বর্জন করে আসছিলেন।

শেয়ার করুন