তাইজুলের ঘূর্ণিতে রূপগঞ্জের হার

SHAKIBস্পোর্টস রিপোর্টার : তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে বিধ্বস্ত হয়েছে লিজেন্ডন্স অব রূপগঞ্জ। সাকিব আল হাসান এসেও দলটির টানা তৃতীয় হার এড়াতে পারেননি।

হার দিয়ে লিগ শুরু করা প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ১৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। অষ্টম রাউন্ডে রূপগঞ্জকে ৯৫ রানে হারিয়ে টানা সপ্তম জয় তুলে নিয়েছে তারা। অন্যদিকে প্রথম পাঁচ ম্যাচে টানা জয়ের পর হেরেই চলেছে রূপগঞ্জ।

বুধবার বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ২৪৩ রান করে প্রাইম ব্যাংক।

সৈকত আলী (২৭), ব্রেন্ডন টেইলর (২৩) ও সৌম্য সরকারের প্রচেষ্টার পরও ৩০তম ওভারে ১০৬ রানে প্রথম চার ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বিপদে পড়ে প্রাইম ব্যাংক।

সেখান থেকে দলকে আড়াইশর কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব শুভাগত হোম চৌধুরী (৪৬), নুরুল হাসান (৪১), তাইবুর পারভেজ (৩৯) ও ফরহাদ রেজার (৩২)।

রূপগঞ্জের আল-আমিন জুনিয়র ও রুবেল হোসেন দুটি করে উইকেট নেন।

জবাবে ৩৯ ওভার ১ বলে ১৪৮ রানেই গুটিয়ে যায় রূপগঞ্জের ইনিংস।

সর্বোচ্চ ৫৩ রান করেন জহুরুল ইসলাম। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪০ রান আসে রায়ান টেন ডেসকাটের ব্যাট থেকে। এছাড়া আর কেউ ভালো করতে না পারায় লক্ষ্যের ধারে কাছে যেতে পারেনি শিরোপাধারী দলটি।

সাকিব একটি চার ও ছক্কার সাহায্যে ৬ বলে করেন ১১ রান।

প্রাইম ব্যাংকের তাইজুল ৪ উইকেট নেন ৩২ রানে। শুভাগত ২ উইকেট নেন ৭ রানে। ঝড়ো ইনিংস খেলার পর ২৮ রান দিয়ে অলক কাপালী ও সাকিবের উইকেট নিয়ে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন অলরাউন্ডার ফরহাদ ।

এদিকে,নাঈম ইসলামের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবকে ৮ রানে হারিয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড।

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে এটি মোহামেডানের চতুর্থ জয় আর শেখ জামালের পঞ্চম হার।

শেষ চার ম্যাচে মাত্র একটি জয় ছিল মোহামেডানের। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকে ফিরে পেয়ে স্বরূপে ফিরেছে দলটি। ছয় বছর পর ক্রিকেটে মেহরাব হোসেনের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে মাত্র ১৮৬ রানের লক্ষ্য দিয়েও জিতেছে দলটি।

বুধবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ১৮৫ রান করে মোহামেডান।

ফেরার ম্যাচে খুব একটা ভালো করতে পারেননি বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শতক করা মেহরাব। মাত্র ৩ রান করে সোহাগ গাজীর বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি। শুরুটা ভালো হয়নি মোহামেডানেরও। মাত্র ১১ রানে প্রথম তিন ব্যাটসম্যানকে হারায় তারা।

মোহাম্মদ মিঠুনের (৩১) সঙ্গে ৬৪ ও জিম্বাবুয়ের অলরাউন্ডার সলোমন মায়ারের (১৯) সঙ্গে ৩২ রানের দুটি জুটি উপহার দিয়ে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন নাঈম।

৪৩তম ওভারের প্রথম বলে দলীয় ১৩৭ রানে ফেরার আগে ৫৭ রানের চমৎকার এক ইনিংস খেলেন নাঈম। তার বিদায়ের পর আরিফুল হক ছাড়া আর কেউ ভালো করতে না পারায় দুইশ’ পর্যন্ত যায়নি মোহামেডানের সংগ্রহ।

৩৩ রানে ৩ উইকেট নিয়ে শেখ জামালের সেরা বোলার অফস্পিনার সোহাগ।

জবাবে ৪৮ ওভার ৫ বলে ১৭৭ রানে অলআউট হয়ে যায় শেখ জামাল।

অন্য ব্যাটসম্যানরা খুব একটা ভালো না করলেও শাহরিয়ার নাফীসের দৃঢ়তায় এক সময়ে শেখ জামালের স্কোর ছিল ৬ উইকেটে ১৭২ রান।

জয়ের জন্য মাত্র ১৬ রান প্রয়োজন ছিল শেখ জামালের। কিন্তু ১১৫ বলে ১১টি চারের সাহায্যে ৮৯ রান করে নাফীস বিদায় নিলে খেলার চিত্রটা পাল্টে যায়। শূন্য রানে শেষ তিন উইকেট হারিয়ে হার এড়াতে পারেনি দলটি।

ম্যাচ সেরা নাঈম ৩ উইকেট নেন ২১ রানে। অমিত কুমার নেন তিন উইকেট, তার খরচ হয় ৩৫ রান।

 

স্পিনারদের দাপটে সহজ জয় পেয়েছে প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব। ওল্ড ডিওএইচএস স্পোর্টিং ক্লাবকে ১০৬ রানে হারিয়েছে তারা।

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের অষ্টম রাউন্ডে এসে পঞ্চম জয় পেয়েছে প্রাইম দোলেশ্বর। অন্য দিকে টানা অষ্টম হারের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে ওল্ড ডিওএইচএস।

ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ২২৫ রান করে প্রাইম দোলেশ্বর।

রনি তালুকদারের (২৯) সঙ্গে মেহেদি মারুফের ৬৭ রানের উদ্বোধনী জুটি ভালো সূচনা এনে দেয় প্রাইম দোলেশ্বরকে। সর্বোচ্চ ৪৭ রান করে মারুফের বিদায়ের পর নিয়মিত উইকেট হারানোয় দলটির সংগ্রহ আরো বড় হয়নি।

জিম্বাবুয়ে সিরিজ শেষে দলে যোগ দেয়া মুমিনুল হক (১৮) ও মুশফিকুর রহিম (২৫) আউট হন উইকেট থিতু হয়ে। তবে নয় ব্যাটসম্যানই দুই অঙ্কে পৌঁছানোয় লড়াইয়ের পুঁজি পেতে খুব একটা সমস্যা হয়নি দলটির।

ওল্ড ডিওএইচএসের সালেহ আহমেদ ৪ উইকেট নেন ৩০ রানে। এছাড়া দুটি করে উইকেট নেন শহিদুল ইসলাম ও সঞ্জিত সাহা।

জবাবে আসিফ আহমেদ ও সানজামুল ইসলামের ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে ৪০ ওভার ২ বলে ১১৬ রানে অলআউট হয়ে যায় ওল্ড ডিওএইচএস।

সর্বোচ্চ ৫৯ রান করেন শাহনাজ আহমেদ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১ রান আসে রুবেল মিয়ার ব্যাট থেকে। দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের বাইরে দুই অঙ্কে পৌঁছান কেবল সঞ্জিত (১৭)।

ম্যাচ সেরা আসিফ ৫ উইকেট নেন ২৪ রানে। সানাজামুল ২০ রানে নেন ৪ উইকেট।

শেয়ার করুন