শাবি উপাচার্যকে সিনিয়র শিক্ষকদের ৫ দফা

শাবিতে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের পর সাংবাদিকদের ব্রিফ দিচ্ছেন উপাচার্য-ফাইল ছবি

শাবিতে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের পর সাংবাদিকদের ব্রিফ দিচ্ছেন উপাচার্য-ফাইল ছবি

শাবি প্রতিনিধি: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনার সংকট নিরসন কল্পে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম ভূইয়া বরাবর ৫ দফা দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকরা। বৃহস্পতিবার মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী শিক্ষক ফোরাম’র আহবায়ক অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিমের নেতৃত্বে শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি উপাচার্যের কার্যালয়ে দেখা করে এ স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখিত দাবীগুলো হচ্ছে, (১) ঘটনার পরে প্রক্টরিয়াল বডির যে সকল সদস্য পদত্যাগ করেছেন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আগে তাদের পদত্যাগ পত্র গ্রহণ না করা।(২) সংঘর্ষের দিন প্রশাসনিক ভবনে কারা অস্ত্র রেখেছে ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের চিহ্নিত করা ও যথোপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা। (৩) মেধার ভিত্তিতে আবাসিক হলগুলোতে আসন বরাদ্দ করা। (৪) বহি:শক্তি যেন ক্যাম্পাসে অপপ্রচার চালাতে সাহস না পায় সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া ও (৫) ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা।
স্মারকলিপিতে তারা বলেন, গত ২০ নভেম্বর শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দ’ুটি বিবাদমান গ্রুপের মধ্যে যে বিভীষিকাময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয় তা অত্যন্ত নিন্দনীয়, যার দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনভাবেই এড়াতে পারে না। শাবিপ্রবির ইতিহাসে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি কখনোসৃষ্টি হয়নি। মিডিয়ার কল্যাণে শাবিপ্রবি পরিবারের সদস্য ও দেশবাসী সেদিন বিভীষিকাময় পরিস্থিতির অবলোকন করেছে। বরাবরের মত প্রশাসনের উদ্দেশ্যমূলক নির্লিপ্ততা দেখে আমরা বিষ্ময়ে হতবাক হয়েছি। দিনের বেলায় বহিরাগত সন্ত্রাসী কর্তৃক হল দখল এবং ২য় পর্বে আর এক গ্রুপ বহিরাগত সন্ত্রাসীসহ প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছে এবং ক্যাম্পাসজুড়ে সন্ত্রাসী তান্ডব চালিয়েছে অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এতে আরো উল্লেখ করা হয়, কতিপয় স্বার্থান্বেষীর প্রত্যক্ষ মদদ ও ইন্ধনে হল ও ক্যাম্পাসে একক আধিপত্য বিস্তারকরণে ছাত্রলীগকে বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্তিকরণ, পছন্দের গ্রুপকে মদদ দান, অপছন্দের গ্রুপকে নাজেহাল কিংবা বহিষ্কার বা কোণঠাসা করে রাখা মদদপুষ্ট গ্রুপের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিচার না করা ইত্যাদির ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নগ্ন চেহারা অবলোকন করেই সন্ত্রাসীরা বাধাহীনভাবে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ফলশ্রুতিতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যাক্কারজনক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, জীবন দিতে হয়েছে, একজনকে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে অনেককেই, বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থায় দীর্ঘ সেশনজটের কবলে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অধ্যাপক ড. আশরাফ, অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল, অধ্যাপক ড. ইসমাইল, অধ্যাপক ড. তাজউদ্দিন, নজরুল ইসলাম, মোখলেছুর রহমান, সুমন আকন্দ, সাহাবুল হক প্রমুখ।

শেয়ার করুন