জেলরোডে কোটি টাকা মূল্যের ভূমি নামমাত্র মূল্যে ইজারা

সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন কামরানের আমলের চুক্তি

8098ডেস্ক রিপোর্ট:নগরীর জেলরোডে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রায় কোটি টাকা মূল্যের ৩ শতক ভূমি মাত্র ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা সেলামিতে লিজ দিয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। আর বন্দোবস্তকৃত ভূমির বার্ষিক ভাড়া ধরা হয়েছে মাত্র ১৫শ’ টাকা। ২০০৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর সিলেট সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের সাথে ঐতিহ্যবাহী করিম উল্যাহ গ্রুপের চারজন অংশীদারের এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় ইজারাদারদের পক্ষ হতে ২০০৬ ও ২০০৭ সালে রীতিমতো বার্ষিক ভাড়াও পরিশোধ করা হয়। কিন্তু ওয়ান ইলেভেনের সময় ইজারাদার ভাড়া পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েন। এ কারণে লিজ গ্রহীতাদের পক্ষ থেকে ২০১৩ সালে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়রসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নম্বর-৫৩৫৬) দাখিল করা হয়। রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি হাবিবুল গণির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গত ৩০ এপ্রিল এক আদেশে সংশ্লিষ্টদের বার্ষিক ভাড়া গ্রহণের নির্দেশ দেন। কিন্তু সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ভাড়া গ্রহণ করা হয়নি বলে জানা গেছে। এ কারণে লিজ গ্রহিতাদের পক্ষ থেকে কোর্ট অব কনটেম্প (আদালত অবমাননা) মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। করিম উল্যাহ গ্রুপের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন মো: সানা উল্যা, কুদরত উল্যা, মো: আতা উল্যাহ ও তার স্ত্রী আছিয়া জাহান। চুক্তি অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ অনুমোদিত নক্সা অনুযায়ী বহুতল/আবাসিক বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অনুমতি দেয়া হয়েছে। বহুতল আবাসিক/বাণিজ্যিক ভবনের বন্দোবস্ত গ্রহীতাগণ হস্তান্তর ফিস বাবদ শতকরা ১০ ভাগ সিলেট সিটি কর্পোরেশনের তহবিলে জমা দেবেন। এছাড়া, প্রতি ২০ বছর অন্তর অন্তর নবায়নসহ শতকরা ২০ ভাগ হারে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টিও শর্তে উল্লেখ রয়েছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের একটি সূত্র জানায়, চেম্বার ভবনের লাগোয়া ওই তিন শতক ভূমিতে আগে পশুর খোয়াড় ছিল। নগরায়নের ফলে খোয়াড়টি কালের আবর্তে হারিয়ে গেছে। যে কারণে ভূমিটি অনেকটা পরিত্যক্ত। তবে, পার্শ্ববর্তী ভূমির মালিক আতাউল্লাহ সাকেরের পরিবার ভূমিটি লিজ নিতে তৎপর হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে তৎকালীন সিটি মেয়র বদর উদ্দিন কামরান ভূমিটি তাদের অনুকূলে লিজ প্রদান করেন।

আলাপকালে আতা উল্যাহ জানান, জেলরোডে হবিব উল্যাহ ভবন নামে তাদের একটি ভবন রয়েছে। এই ভবনের পাশের জায়গা হচ্ছে-লিজ নেয়া ওই ভূমি। এই ভূমিতে অনেক সময় মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। এলাকাবাসীর অনুরোধের প্রেক্ষিতে মাদকসেবীদের আস্তানা নির্মূল করা এবং গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য তারা ভূমিটি লিজ নিয়েছিলেন। লিজ নেয়ার পর তারা দুই বছর ভাড়াও পরিশোধ করেন। কিন্তু ওয়ান ইলেভেনের সময় সংশ্লিষ্টদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে তারা ভাড়া প্রদান থেকে বিরত ছিলেন। এরপর তাদের পক্ষ থেকে- বার্ষিক ভাড়া দিতে আগ্রহ দেখালে সিটি কর্পোরেশন তাতে অনীহা প্রকাশ করে। এরপর ২০১৩ সালে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন এবং আদালত গত এপ্রিলে তাদের অনুকূলে রায় দেন। কিন্তু, সিটি কর্পোরেশন ভাড়া নিতে কালক্ষেপন করায় তিনি এ ব্যাপারে একটি কোর্ট অব কনটেম্প মামলা করেছেন। পাশাপাশি গত বুধবার তিনি ওই ভূমিতে ইজারাদার হিসাবে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করে টিনের বেড়া দিয়েছেন এবং সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ করেছেন। সিকিউরিটি গার্ডদেরকে একটি মহল হুমকি প্রদান করায় তিনি এ ব্যাপারে গতকাল কোতয়ালী থানায় একটি জিডি(নম্বর-৬৩০) এন্ট্রি করেছেন বলে জানান। এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবিব ও ভারপ্রাপ্ত চীফ ইঞ্জিনিয়ার নূর আজিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে,স্থানীয় কাউন্সিলর সাইফুল আমিন বাকের জানান, মামলার রায় পেলেও সংশ্লিষ্টরা কাউন্সিলর হিসেবে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। ইজারাদার দাবি করে তারা টিন দিয়ে ঐ ভূমিতে বেড়া দিয়েছে বলেও জানান তিনি।(তথ্যসূত্র: দৈনিক সিলেটের ডাক)

শেয়ার করুন