বৈচিত্রময় সিলেট, চলুন না একটু ঘুরে আসি

হুমায়ূন রশিদ চৌধূরী ॥ পুরো সিলেট বিভাগ পর্যটন সমৃদ্ধ। বৈচিত্রময় এ বিভাগের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ানোর মজাই আলাদা। কি শীত কি বর্ষায়। কখনো দিগন্ত বিস্তৃত হাওর। আর এই হাওরের পনিতে পাখির পালকে তোলা ঢেউ,আবার কখনো সবুজ পাহাড়। আর পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝর্ণা । ঢেউ খেলানো সবুজ চা-বাগান। পাহাড়ী নদীতে বালি ও পাথর তোলার  দৃশ্য সহ অসংখ্য দর্শনীয় স্থান মন কেড়ে নেয় । শীতে কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে চারদিক। ভোরের সূর্য মধ্য আকাশে যখন আসে তখন সবুজ প্রান্তরে শিশির বিন্দুগুলোকে মুক্তার মত দেখায়। এসব দৃশ্য নয়ন কাড়া। এ বিভাগের চার জেলা সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেটে রয়েছে অসংখ্য পর্যটন স্পট। সিলেটের নানা স্থানে ছড়িয়ে আছে নয়ন  জুড়ানো মনমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক নিদর্শন।
বিশেষ করে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে সিলেটের ওলিকূল শিরোমণি হযরত শাহজালাল(র:) ও হযরত শাহপরান(র:) এর মাজার সহ ৩৬০আউলিয়ার মাজার । তাই সিলেটকে  আধ্যাত্মিক রাজধানীও বলা হয়ে থাকে। সিলেটে জন্ম নিয়েছেন অসংখ্য পীর,সাধক,মরমী কবি। ইতিহাস খ্যাত মরমী সাধক হাছন রাজা, শ্রীচৈতন্য,আরকুম শাহ, দুর্বিন শাহ সহ আউল-বাউল কবি সহ  অসংখ্য কীর্তিমান পুরুষ জন্ম নিয়েছেন  সিলেটে। রাজনৈতিক,সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ভৌগলিক প্রেক্ষাপটেও সিলেট একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ এবং আলাদা বৈশিষ্টের অধিকারী।
এ খানের বিভিন্ন স্থানে  ছড়িয়ে রয়েছে ঐতিহাসিক স্থাপনা। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও ঐতিহাসিক স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রবাসী সিলেটীদের ভূমিকা ইতিহাসের পাতায় অম্লান। মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর এম, এ, জি ওসমানী এ মাটিরই সন্তান। সিলেট নগরীর  নাইওরপুল আবাসিক এলাকায় তারই বাসভবনে স্থাপিত হয়েছে ওসমানী স্মৃতি যাদুঘর। দেশ বিভাগ আন্দোলনে সিলেটবাসীর রায় ছিল ঐতিহাসিক। ভারতের আসাম থেকে তদানীন্তন পূর্বপাকিস্তানে সিলেট রেফারেন্ডামের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছিল। সিলেটের বিপুল সংখ্য্যক মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করছেন বহুবছর আগ থেকে । তারা  বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন। এ সব নানা কারণে সিলেটের গুরুত্ব আলাদা।
এই জনপদের আলাদা কৃষ্টি আর ঐতিহ্যের কারনে প্রাচীন কাল থেকেই এখানে ইতিহাস বিখ্যাত মানুষের আগমন ঘটেছে এবং এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ব পরিব্রাজক ইবনে বতুতাও সিলেট সফর করেছেন। একই ভাবে সিলেটের মানুষও সেই প্রচীন কাল থেকে বহির্গামী। যার ফলে আজো পৃথিবীর বহু দেশে সিলেটের বাসিন্দারা সুনামের  সাথে ঐসব দেশে অবস্থান করছেন এবং সেখানকার অর্থনীতিতেও রাখছেন বিশেষ অবদান। সিলেট প্রাকৃতিক সম্পদেও সমৃদ্ধ। এখানে রয়েছে বনজ,ফলদ,খনিজ সম্পদ। এখানে মাটির নিচে রয়েছে অফুরান তেল-গ্যাস । সম্পদে সমৃদ্ধ এ এলাকাটি জাতীয় অমূল্য সম্পদ। এখানের মতস্য সম্পদ, শীতের পাখি, উৎপাদিত ধান,বালি,পাথর দেশের দেশের অনন্য সম্পদ। সিলেটের প্রাকৃতিক দৃশ্য অবলোকন করতে  প্রতিদিন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন হাজার হাজার পর্যটক ।
এক সময় এ সব স্থানে কেবল শীত কালেই ভিড় হতো। এখন সব মৌসুমে ভিড় লেগেই আছে। এখানে শীতে এক দৃশ্য ও বর্ষায় অন্যরকম। অন্যদিকে দিনে দিনে অবিষ্কার হচ্ছে নতুন নতুন পর্যটন স্পট। আর হুমড়ী খেয়ে পড়ছে মানুষ। কিন্তু অনেক সময় আগত পর্যটকরা সিলেটে এসে বিপাকে পড়েন। আসা-যাওয়া ও থাকা খাওয়া নিয়ে বিড়ম্বনার কথা অনেকেই বলে থাকেন। তাই আগ থেকেএ সম্পর্কে ধারনা নিলে বেড়ানো হয় সুখকর ও বৈচিত্রময় । দেশ-বিদেশ খ্যাত প্রকৃতি কন্যা জাফলং ,মাধবকুন্ড, হামহাম জলপ্রপাত এই সিলেটেই। খাসিয়া-জৈন্তিয়া পাহাড়ের মনোলোভা দৃশ্য, মনোমুগ্ধকর খাসিয়া পল্লী, জাফলংয়ের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য, তামাবিল স্থলবন্দর, চেরাপুঞ্জির নিচে ভোলাগঞ্জের সাদাসাদা পাথরের স্তুপ ও কোয়ারিতে হাজার হাজার নারী-পুরুষের কর্মমুখর  পরিবেশ, সবুজ চা বাগান, খাদিম ফরেষ্ট, সুনামগঞ্জের রামসারভূক্ত টাঙ্গুয়া ও হাকালুকির হাওর, টেকের ঘাট, যাদুকাটা নদী, বারাইক্কা টিলা, শ্রীমঙ্গলে টি-রিসোর্ট , বিছনাকান্দি, পান্তুমাই ঝর্ণা, মাধবপুর লেক, গোলাপগঞ্জের শ্রীচৈতন্যের মন্দির, সিলেট ও সুনামগঞ্জে হাসন রাজার মিউজিয়াম, ডলুরা শহীদ মিনার, টিলাগড় ইকোপার্ক, ঐতিহাসিক ক্বীন ব্রীজ, আলী আমজাদের ঘড়ি, ভিআইপি সার্কিট হাউজ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, এমসি কলেজ ক্যাম্পাস, সিলেট আন্তর্জাতিক ওসমানী বিমান বন্দর এলাকা, জকিগঞ্জে বরাক-সুরমা কুশিয়ারা তিন নদীর মোহনায় অমলসিদ, সবুজ পাহাড় আর স্বচ্ছ জলের বহমান ধারা লালাখাল-এ পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত হয়।
এছাড়াও আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন নাজিমগড় রিসোর্ট, জাকারিয়া সিটি, ড্রীমল্যান্ড পার্ক, মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, সাতছড়ি রেইন ফরেস্ট এবং গোয়াইনঘাটে রাতারগুল ফরেষ্টে ইদানিং ঢল নামে ভ্রমণ পিপাসুদের।
সিলেটে এখন তীব্র শীত। তারপরও পর্যটকদের ঢল নেমেছে। এ অবস্থা চলবে পুরো শীত মৌসুমজুড়ে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা অসংখ্য পর্যটক বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন।
সিলেট নগরীর পাশাপাশি মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলা শহরের হোটেল মোটেল গেস্ট ও রেস্ট হাউসগুলো পর্যটকে পরিপূর্ণ। সিলেটে  বিভিন্ন পর্যটন স্পটে সানন্দ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পর্যটকরা। সারি সারি চা বাগান, উঁচু নিচু পাহাড় টিলায়, গহীন অরণ্য ও ঝরণা ধারায়, হাওর বিল ঝিলে ঘুরছেন সৌন্দর্য্য পিয়াসী নানা বয়সের নারী-পুরুষ। খাদিমপাড়ায় নাজিমগড় রিসোর্টের সত্ত্বাধিকারী নাজিম কামরান চৌধুরী বলেছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সিলেট হবে দেশের সবচয়ে বড় পর্যটন আকর্ষণ। তবে এর জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়াতে হবে। তিনি জানান, এখন যেসব বিদেশী পর্যটক সিলেটে আসছে-তারা দেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত। তবে সরকারি সহযোগিতায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে সিলেটের পর্যটনের চেহারা পাল্টে যাবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের সদস্য ডা. জাকারিয়া আহমেদ বলেন, সিলেটের প্রাকৃতিক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যাবলী দিনে দিনে আকৃষ্ট করছে। সিলেট তামাবিল মহাসড়কের পাশে দেশের প্রথম রিসোর্ট জাকারিয়া সিটি’র সত্ত্বাধিকারীও তিনি। এ প্রসঙ্গে আশার কথা শুনিয়েছেন পর্যটন সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী এমপি। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশনের কারিগরি সহযোগিতায় সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে নিয়ে বিশেষ ডকুমেন্টারি ফিল্ম তৈরী করা হয়েছে। সিলেটে পর্যটক আকর্ষণ বাড়ায় এটি করা হচ্ছে। শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, সিলেটকে পর্যটন নগরী ঘোষণা করা  হবে খুব শীঘ্রই।
কিভাবে সিলেট যাবেন: সারা বছরই সিলেটের পর্যটন ষ্পটগুলোতে যাওয়া যায়। সিলেট যাওয়ার তিনটি ওয়ে রয়েছে। বিমান, রেল ও সড়ক পথ। রেল ও সড়ক পথের যাত্রার আনন্দে ভিন্ন আমেজ রয়েছে। সারা বছর সিলেটের সাথে বিমান যোগাযোগ থাকলেও এবার হজ্ব মৌসুমে বিমান সংকটের কারণে সিডিউল বিপর্যয় চলছে। তাই বিমানের ফ্লাইট একেকদিন একেক সময়ে। আপনি যদি বিমানে যাতায়াত করতে চান সেক্ষেত্রে খরচ একটু বেশী পড়বে। তবে সময় অনেকটা সাশ্রয় হবে।
সিলেট-ঢাকা রুটের বিমান ভাড়া ওয়ান ওয়ে সব মিলিয়ে ২হাজার ৮শত টাকা। বিমান সংকটের কারণে এখন ঢাকা-সিলেট ফ্লাইটের মারাত্মক সল্পতা দেখা দিয়েছে। সেক্ষেত্রে বিমান অফিস থেকে সময়সূচি জেনে নেয়া ভালো। কারণ বিভিন্ন কারণে সময়সূচি পরিবর্র্তন হয়ে থাকে। এছাড়া বেসরকারী দু’টি বিমান রয়েছে- ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজ।
ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ: ঢাকা থেকে প্রতিদিন ১১.২০ মিনিটে ও সিলেট থেকে ১২.২০ মিনিটে ছেড়ে যায়। ভাড়া ৩০০০টাকা, ৩৬০০টাকা, ৪,৯০০টাকা। ফোন: ০৮২১-৭২৭৮৭১-৪,  মোবাইল: ০১৭১৩৪৮৬৬৫৩, ০১৭১৩৪৮৬৬৫৪।
রিজেন্ট এয়ারওয়েজ: ঢাকা থেকে ছাড়ে ১২.৫০ মিনিটে ও সিলেট থেকে ছাড়ে ১.৫৫ মিনিটে। ভাড়া ৩২০০ টাকা, ৩৮০০ টাকা ও ৪৫০০ টাকা। মোবাইল: ০১৭৩০৩৫৮৮৭৫। এ ক্ষেত্রে ফোনে যোগাযোগ করে নেয়াই ভালো। কারণ ভাড়া ও সময়সূূচী পরিবর্তনশীল।
রেল ভ্রমণ: রেলকে এক সময় আনন্দের ভ্রমণ বলা হতো। এখন টিকেটের দুষ্প্রাপ্যতা, সময়মত গন্তব্যে না পৌছা, আশানরূপ সেবা পাওয়া যায়না। তারপরও অনেকেই রেল ভ্রমন পছন্দ করে থাকেন। ঢাকা কমলাপুর থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে রেল ছাড়ে বিভিন্ন সময়। কমলাপুর-সিলেট, সিলেট-কমলাপুর আন্তনগর বেশ কয়েকটি ট্রেন রয়েছে রেল সূূত্র জানায়।
ঢাকা-সিলেট,পারাবত এক্সপ্রেস সকাল ৬.৪০ মিনিটে ছেড়ে সিলেট পৌঁছে ১.২০ মিনিটে। মঙ্গলবার বন্ধ। জয়ন্তিকা এক্স্রপ্রেস প্রতিদিন দুপুর ১২ টায় ছেড়ে সিলেট পৌছে রাত ৭.১৫ মিনিটে। কালনী এক্সপ্রেস বেলা ৩টায় ছেড়ে সিলেট পৌঁছে রাত ৯ টা ১৫ মিনিটে। শুক্রবার বন্ধ। উপবন এক্সপ্রেস রাত ৯টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে সিলেট পৌঁছে ভোর ৫ টা ১০ মিনিটে। বুধবার বন্ধ। এছাড়া সুরমা মেইল রাত ১০ টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে পরদিন দুপুর ১২ টায় সিলেট পৌঁছে।
সিলেট-ঢাকা, কালনী এক্সপ্রেস সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে সিলেট ছেড়ে ঢাকা কমলাপুর পৌছে দুপুর ১ টায়। শুক্রবার বন্ধ। জয়ন্তিকা এক্স্রপ্রেস প্রতিদিন সকাল  ৮ টা  ২০ মিনিটে সিলেট ছেড়ে ঢাকা পৌঁছে বিকাল ৩ টা ৪৫ মিনিটে। বৃহস্পতিবার বন্ধ। পারাবত এক্সপ্রেস বেলা ৩ টায় ছেড়ে ঢাকা পৌঁছে রাত ৯ টা ৫০ মিনিটে। মঙ্গলবার বন্ধ।  উপবন এক্সপ্রেস প্রতিদিন রাত ১০ টায় ছেড়ে ঢাকা  পৌঁছে ভোর ৫ টা ১৫ মিনিটে। । এছাড়া প্রতিদিন সুরমা মেইল রাত ৮ টা ২০ মিনিটে ছেড়ে পরদিন সকাল ১০ টা ১৫ মিনিটে ঢাকা পৌঁছে।
ভাড়া: ঢাকা-সিলেট, সিলেট-ঢাকা শোভন ২৪৫ টাকা, শোভন চেয়ার ২৯৫ টাকা, প্রথম শ্রেণী চেয়ার ৩৯৫ টাকা, এসি চেয়ার ৫৬৫ টাকা, নন এসি স্লিপার ৬৪০ টাকা, এসি স্লিপার ১০৭০ টাকা।
সিলেট-চট্রগ্রাম: পাহাড়িকা এক্সপ্রেস, সিলেট থেকে সকাল ১০ টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে চট্রগ্রাম স্টেশনে পৌঁছে সন্ধ্যা ৭ টা ৩৫ মিনিটে। শনিবার বন্ধ। উদয়ন এক্সপ্রেস রাত ৯ টা ২০ মিনিটে ছেড়ে সকাল ৬ টা ১০ মিনিটে চট্রগ্রাম পৌঁছে। রবিবার বন্ধ। জালালাবাদ এক্সপ্রেস রাত ১০ টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে পরদিন দুপুর ১ টা ১৫ মিনিটে চট্রগ্রাম পৌঁছে।
চট্রগ্রাম-সিলেট: পাহাড়িকা এক্সপ্রেস,চট্রগ্রাম থেকে সকাল ৮ টা ছেড়ে সিলেট  পৌঁছে বিকাল ৫ টায়। সোমবার বন্ধ। উদয়ন এক্সপ্রেস রাত ৯ টায় ছেড়ে সকাল ৬ টায় সিলেট পৌঁছে। শনিবার বন্ধ। জালালাবাদ এক্সপ্রেস রাত ৭ টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে পরদিন দুপুর ১১ টায় ১০ মিনিটে সিলেট পৌঁছে।
ভাড়া: সিলেট-চট্রগ্রাম,চট্রগ্রাম-সিলেট শুভন ২৯০ টাকা, শোভন চেয়ার ৩৪৫ টাকা, প্রথম শ্রেণী চেয়ার ৪৬০টাকা, এসি চেয়ার ৬৬৫ টাকা, নন এসি স্লিপার ৭৪০ টাকা।
সড়ক পথ: ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে প্রতি আধঘন্টা পরপর সাধারণ যাত্রীবাহী বাস ছেড়ে আসে সিলেটের কদমতলী বাসটর্মিনালে। একই ভাবে কদমতলী বাসটার্মিনাল থেকেও ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এসব বাস সার্ভিস  দিবা রাত্রি । সময় লাগে দিনের বেলা ৬/৭ ঘন্টা। রাতে কম ।
ভাড়া ৩৪০ টাকা থেকে ৪৪০ টাকা। এসব বাস ছাড়া একটু আরামে যারা ভ্রমণ করতে চান তারা সোহাগ ও গ্রীণ লাইনের এসি বাসে যেতে আসতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ভাড়া একটু বেশী। ৮৫০টাকা। তবে সময় খুব একটা সাশ্রয় হয় না।
ঢাকার রাজারবাগ থেকে গ্রীণ লাইন এবং মালিবাগ থেকে সোহাদ পরিবহনের গাড়ীগুলো ছেড়ে আসে। সিলেটের সুবহানীঘাট এলাকা থেকে  এ সব গাড়ী ছেড়ে যায়। ঘন্টা-দুঘন্টা পরপর এ রুটে এসব সুপিরিয়র বাস চলাচল করে। সিলেট-চট্রগ্রাম, চট্রগ্রাম-সিলেট রুটেও বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। এ সব রুটের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন মানের হোটেল রেষ্টুরেন্ট স্থাপিত হয়েছে। যাত্রাপথের বিরক্তি দূর করে এসব আধুনিক মানের হোটেলগুলো। এর মধ্যে রয়েছে উজান ভাটি,আল-আমিন ইত্যাদি।
সিলেটে কোথায় থাকবেন,: সিলেট নগরীতে স্থাপিত হয়েছে অসংখ্য হোটেল-মোটেল। এখানে সাধারণ মানের হোটেল থেকে আর্ন্তজাতিক মানের বেশ কয়েকটি হোটেল স্থাপিত হয়েছে। যার ভাড়া ৩শ’ থেকে ২৮ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে। এসব হোটেল সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ দাবি করেন-যে তারা পাঁচ তারকা মানের সেবা দিয়ে থাকেন অতিথিদের।
সিলেট নগরীর নামী-দামী হোটেলৈর মধ্যে রয়েছে হোটেল রোজ ভিউ, হোটেল স্টার প্যাসিফিক, নাজিম গড় রিসোর্টস, জাকারিয়া রিসোর্টস, হোটেল সুপ্রিম, হোটেল হলিসাইড,হোটেল হিল টাউন, হোটেল মেট্রো ইন্টারন্যাশনাল, ফরচুন গার্ডেন, হেটেল নির্ভনা ইন, রেইন বোঁ, হোটেল পলাশ, ওসমানী বিমান বন্দরের অদূরে পর্যটন মোটেল,হোটেল ডালাস, হোটেল ব্রিটেনিয়া ইত্যাদি । এসব হোটেলের নয়ন কাড়া লবি, রুমগুলোর স্বপ্নিল পরিবেশ অতিথিদের আকৃষ্ট করে দারুণভাবে। এসব হোটেলে রয়েছে স্ইুমিংপুল,জিম, কনফারেন্স রুম, ইন্টারনেট সহ ইত্যাদি সুবিধা। একটু কম খরচে থাকতে হলে হোটেল সিলেট ইন,হোটেল গুলশান, ইষ্ট এন্ড, হোটেল দরগা গেইট, হোটেল কায়কোবাদ, হোটেল বাহরাইন ইত্যাদি হোটেল রয়েছে। এছাড়া,রয়েছে অনেক সরকারী ও আধাসরকারী প্রতিষ্ঠানের রেস্ট হাউজ। তবে এ গুলো সব সময় পাওয়া যায়না।
রোজ ভিউ ঃব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে অল্পদিনেই। ঢুকলেই মনে হবে বিশ্বের কোন এক উন্নত দেশের এক হেটেলে আপনি এসে গেছেন। বিশাল লবির সাথে রেষ্টুরেন্ট। মন ভরানো পরিবেশ। সব ধরনের সুস্বাদু খাবার মনে রাখার মত। মোহনীয় পরিবেশ। রুম ভাড়া  ৫ হাজার ২শ’ থেকে ৯ হাজার ২শ পর্যন্ত । এখানে রয়েছে একটি প্রেসিডেনসিয়াল সুইট,যার ভাড়া ২৮ হাজার টাকা। প্রতি রুম ভাড়ার সাথে ১৫% ভ্যাট দিতে হবে। উপশহরে এর অবস্থান। সিলেট রেল ষ্টেশন বা কদমতলী বাস ষ্টেশন থকে মাত্র ১০ মিনিটের রাস্তা। আর গ্রীণ লাইন বা সোহাগে আসলেও মেন্দীভাগ ষ্টেশন থেকে রিক্সায় মাত্র ৫ মিনিট। ফোন:০৮২১-২৮৩১৫০৮-১৪, ০৮২১-২৮৩১৫১৭-২১, সেল:০১৯৭৭২০০৭০০, ০১৭৫৯৯৩৯৩৯৩।
হোটেল স্টার প্যাসিফিক: হযরত শাহজালা (র:) মাজারের প্রধান গেইটেই এর অবস্থান। মাজারে যেতে মাত্র মিনিট তিনেক সময় লাগে। হোটেলটি অত্যাধুনিক। সব সুবিধা রয়েছে। চমৎকার লবি। বহুতলা বিশিষ্ট মান সম্মত এই হোটেলটির সেবা অতিথিদের দৃষ্টি কাড়ে । ভাড়া ৩,১০০,৪,৬০০ থেকে ১০,৬০০ টাকা। বিশেষ করে মাজার সংলগ্ন এই হোটেলে আগতদের মাজারে যখন তখন যেতে কোন অসুবিধা হয় না। সেল:০১৯৩৭৭৭৬৬৪৪,০১৯৩৭৭৭৬৬৩।
নাজিম গড় রিসোর্টস: এ যেন এক নৈসর্গিক সৌন্দর্য। সিলেটের প্রকৃতির সাথে মিল রেখে রিসোর্টটি তৈরী হয়েছে। গাছ-গাছালি আর লতাগুল্মে ভরা প্রতিটি অঙ্গ যেন শিল্পীর তুলির আচড়। এই রিসোর্টের ইটপাথরকে নিসর্গের সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে । সমতল ও টিলা ভূমির উপর নির্মিত হয়েছে পৃথক পৃথক অবকাঠামো। নয়ন যেমন জুড়ায়,মনেও প্রশান্তি আনে এখানের সবুজে ঢাকা পারিপর্শ্বিকতায়। নি:সন্দেহে প্রতিষ্ঠানটি সিলেট তথা বাংলাদেশের জন্য গর্ব। নাজিম গড় ইতমধ্যে দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশী ট্যুরিস্টদেরও দৃষ্টি কেড়েছে। কোলাহলমুক্ত শহরতলীর নিরিবিলি স্থানে ৬ একর ভূমিতে বেশ কয়েক বছর আগে প্রতিষ্ঠা লাভ করে এর খ্যাতি এখন অনেক দূর এগিয়ে গেছে । এখানে দ‘ুধরনের রুম রয়েছে-“সেকন্দর খানগাজী ”ও “থেকারে রুম”।
রুম ভাড়া: ৫ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ১৪ হাজার ৯০০ টাকা । সুইমিং, জিম সহ সবধরনের  সুবিধা রয়েছে এখানে। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রেল ষ্টেশন থেকে ৪০ ও ৩০ মিনিটের দূরত্বে তামাবিল সড়কের খাদিম নগর এলাকায় এর অবস্থান। নাজিম গড় রিসোর্ট এরই মধ্যে সিলেট থেকে বেশ দূরে মেঘালয়ের একেবারে কাছে আরেকটি রিসোর্ট লালাখালে তৈরী করে পর্যটকদের বিনোদনের এক উত্তম ক্ষেত্র তৈরী করেছে।
জৈন্তা সড়কের সারি ঘাট থেকে ১০ কি.মি.নদী পথে লালাখালে রিভারকুইন রেষ্টুরেন্ট, রিভারকুইন ট্যান্ট রিসোর্টে রাত্রি যাপনে আপনাকে নিয়ে যাবে এক ভিন্ন জগতে। ৩ জনের এক রুমের ভাড়া ৪ হাজার টাকা। এখানের অবজারভেশন টাওয়ার মেঘালয় পাহাড়কে হাতের কাছে নিয়ে আসে।
মেঘালয় পাহাড়ের ভাজে ভাজে সাদা মেঘ  ওড়ার সৌন্দর্র্য্য উপভোগ করার সময় তো বর্ষাকাল। উচু পাহাড়ের পাদদেশে সারি নদী। আর এর নীল জলে কেনু-কায়ায় ঘুরে বেড়ানোর মজাই আলাদা।ফোন:০৮২১-২৮৭০৩৩৮-৯,০৮২১-২৮৭০৫৫৮-৯ মোবাইল:০১৯৬৬৬৭৪৪৪।
জাকারিয়া রিসোর্টস: জাকারিয়া রিসোর্ট সিলেটের পর্যটন শিল্পে এক অনন্য নাম। এটিও খাদিম নগরে। তামাবিল সড়কে হযরত শাহপরান (র:) এর মাজার পেরিয়ে কিছুদূর গেলেই শহরতলীর গ্রামের ভিতর আঁকাবাঁকা পাকা পথ পেরিয়ে সুবিশাল স্থাপনা জাকারিয়া রিসোর্টের। এ যেন একটি বিশাল পার্ক। এখানে রয়েছে বিনোদনের নির্মল ব্যবস্থা। পাখির কুজন আর থাকা খাওয়া সহ হরেক সুবিধা সম্বলিত এই রিসোর্টটি পর্যটন শিল্পের অনন্য সংযোজন। এটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রেল ষ্টেশন থেকে ৪০-৪৫  মিনিটের দূরত্বে । শহরের অনতিদূরে প্রাকৃতিক মায়াবি পরিবেশে গড়ে তোলা জাকারিয়া সিটিতে প্রাকৃতিক পরিবেশে নিরিবিলি পাহাড় চুড়ায় ও উঁচু নিচু ঢালু জায়গায় এ রিসোর্টে রয়েছে কৃত্রিম হ্রদ, ৫শ’ প্রজাতির ১ লাখেরও বেশি গাছ গাছালি। এছাড়াও বিনোদনের বিভিন্ন ব্যবস্থা।
হোটেল হলিসাইড: একেবারে হযরত শাহজালাল (র:) এর মজার সংলগ্ন এ হোটেলটি ইতিমধ্যে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে । বিশেষ করে মাজার থেকে ৩ মিনিটের দূরত্বে এর অবস্থান থাকায় অতিথিদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে এটি। হলিস্ইাডে ডিলাক্স সিঙ্গেল রুম ভাড়া ৯৫০, ডিলাক্স ডাবল ১৩৫০টাকা সহ বিভিন্ন  রেইটের রুম রয়েছে। লাক্সারী সুইটের ভাড়া ২৬৫০ টাকা।
হোটেল সুপ্রিম: তামাবিল সড়কের মিরাবাজার অতিক্রম করতে গেলেই সুউচু টাওয়ার দৃষ্টি কাড়ে। আপন বৈশিষ্ট্যে অতিথিদের মন জয় করে নিয়েছে এই হোটেলটি। হোটেলটি অনেকেই পছন্দ করেন এ কারণে যে ট্রাফিক জ্যাম এড়িয়ে অতিথিরা জাফলং, মাধবকুন্ড সহ গন্তব্যে যেতে পারেন অনায়াসে। ভাড়া ৬৮০-২০৪০ টাকা। ফোন নং০৮২১-৭১০৮৯৭,০৮২১-৭১০৯১৩,০৮২১-৭১১০৩৩ মোবাইল: ০১৭১১-১৯৭০১২।
হোটেল হিল টাউন: বেশ পুরনো। তবে আধুনিক রুচিশীল এ হোটেলটির কথা অনেকেই জানেন। নগরীর তালতলায় সুরমা নদীর কাছাকাছি এ হোটেলের অবস্থান। ৩০০-৭৫০ টাকার রুম রয়েছে। আবার এসি রুম ১২ শ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত । ৪ হাজার টাকার এসি ফ্যমিলি রুম ফ্ল্যাট বাড়ীর মতো। এগুলো ভিআইপিদের বেশ পছন্দের ।  ৬ তলা বিশিষ্ট এই হেটেলে সব সুবিধা রয়েছে। যোগাযোগের জন্যও ভালো অবস্থানে। হোটেলটির সংস্কার কাজ শেষ হলে এর আঙ্গিক আরো মোহনীয় হয়ে উঠবে। ইতমধ্যে রেষ্টুরেন্টটিকে অধুনিকায়ন করা হয়েছে। ফোন ০৮২১-৭১৮২৬৩,০৮২১-৭১৬০১১।
হোটেল মেট্রো ইন্টারন্যাশনাল: পূর্ববন্দর বাজারে এর অবস্থান। সড়ক, রেল ও বিমানে আসলেও এর লোকেশন চমতকার স্থানে। ভিথরটি আভিজাত্যে ভরা। বিশাল রেষ্টুরেন্ট ও এর সুস্বাধু খাবার অতিথিদের বারবার কাছে টানবে । ৩ তারকা মানের এ হোটেলকে উন্নত সেবা ও মান সম্মত ব্যবস্থাপনার জন্য গত ৩০ সেপ্টেম্বর জেনেভায় অনুষ্ঠিত বিআইডি কর্তৃক এওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। হোটেলটির রুম ভাড়া ১,৪০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা । ফোন:০৮২১-৭২১১৪৩,০৮২১-৭১৫০৬৮।সেল:০১৭৩১-৫৩৩৭৩৩,০১৯৭১-৫৩৩৭৩৩।
হেটেল নির্ভানা ইন: মির্জাজাঙ্গালে এর অবস্থান। আবাসিক এলাকায় খুবই নিরিবিলি পরিবেশে এই হোটেলটির অবস্থান। রাস্তা থেকে উপরের দিকে সোজা টানা সিড়ি। এর পর চমৎকার লবি। লবির ডান পাশেই সুইমিং পুল। এর পর ডাইনিং । এর পরিবেশ মায়াবী। নারিকেল গাছের পাতা ছোঁয়া উপর তলায় রুমগুলো যেন সত্যই হোমলি। এখানে রুম ভাড়া ২,৩০০থেকে ৮০০০ টাকা।ফোন:০৮২১-২৮৩০৫৭৬৭মোবাইল০১৭১১৩৩৬৭৬১,
০১৯১১৭২০২১৩।
ফরচুন গার্ডেন: চমৎকার লোকেসনে নগরীর নাইওরপুলের বঙ্গবীর রোডে অত্যাধুনিক এই হেটেলটি অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে। নানা সুযোগ সুবিধায় ভরপুর এ হেটেলের আতিথেয়তা যারা গ্রহণ করেছেন তারা ভুলেন না এ হোটেলের নাম। প্রশ¯ ’,নয়ন কাড়া ডাইনিং ও সুস্বাদু খাবার এর জন্য সুনাম কুড়িয়েছে। রুম ভাড়া ৭০০-৩৫০০টাকা পর্যন্ত। ফোন:০৮২১-৭১৫৫৯০,০৮২১-৭২২৪৯৯ মোবাইল:০১৫২-৪২৭৮৪২।
রেইন বোঁ: নগরীর সুনামগঞ্জ রোডে ফাজিলচিশত এলাকায় হযরত শাহজালাল(র:) এর মাজারের পশ্চিম দক্ষিণ দিকে ৫-৭ মিনিটের দূরত্বে এর অবস্থান। হোটেলের রুমগুলো মায়াবী। রেষ্টুরেন্ট, কনফারেন্স হল চমতকার। যে কোন স্থানে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ এর জন্য অনেকের পছন্দের তালিকায় হোটেল রেইন বোঁ। রুম ভাড়া ১০০০-২৭০০টাকা।ফোন: ০৮২১-৭১০৪৩১,০৮২১-২৮৩২৬০৭।
হোটেল পলাশ: আম্বরখানায় সিলেট বিমানবন্দর সড়কে অবস্থিত হোটেল পলাশের পরিচিতি বহু বছর আগের। চমতকার লোকেশন প্রশস্থ রুম অতিথিদের মন কাড়ে। এটিও হযরত শাহজালাল (র:) এর মাজার থেকে ১০ মিনিটের দূরত্বে। রুমভাড়া ৫৭৫ থেকে ২৭০০ টাকা।ফোন:পিএব্এিক্স-০৮২১-৭১৮৩০৯,০৮২১-৭১৫০৩৫মোবাইল ০১৭১২-২৪৯৩৮৯।
কোথায় কোথায় যাবেন কি ভাবে যাবেন: সিলেটে আসলে দ্ইু ওলির মাজার জিয়ারতের পর অনেকেই অন্তত: জাফলং ও মাধবকুন্ড না দেখে কেউ যেতে চান না। একটু সকাল বেরিয়ে পড়লে অনেক স্থান ঘোরা যায়। সিলেট থেকে ৫০ কি.মি.দূরে জাফলং যাওয়া-আসা যায় দু‘ভাবে। সুবহানীঘাট থেকে লাইনের বাস। অথবা নিজের ভাড়া করা কার,মাইক্রোবাসে। মাইক্রোবাস ভাড়া সারা দিনের জন্য ২ হাজার টাকা। বিশেষ বিশেষ দিনে একটু বেশী। তবে এ ক্ষেত্রে দরদাম করে ঠিক করাই ভালো। জাফলং যাওয়ার পথে জৈন্তা রাজবাড়ী। চাইলে দেখে যেতে পারেন। জাফলং যাওয়ার পথে চোখে পড়বে হাতছানি দেয়া মেঘালয় পাহাড়। উচু পাহাড় বেয়ে নেমে আসা সফেদ ঝর্ণা।
জাফলং মামার দোকানের সামনে গাড়ী রেখে সামনে এগুলেই ভারতের ডাউকি ব্রীজ দিয়ে নেমে আসা পিয়াইন নদী। এই নদী থেকে হাজার হাজার নারী-পুরুষের পাথর তোলার অপরুপ দৃশ্য পর্যটকদের এক আকর্ষন। পর্যটকরা নৌকা ভাড়া করে জিরো পয়েন্টে যান ডাউকি ঝুলন্ত ব্রীজ দেখতে। সাবধান অনেক সময় পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ জলে সাঁতার কাটতে যেয়ে চোরাবালিতে পড়ে জীবন বিপন্ন করবেন না। লালা খাল যেতে সারি নদীতেও এ রকম চোরাবালি রয়েছে। আবার আনন্দের উচ্ছলতায় জিরো পয়েন্ট অতিক্রম করে নিজে ও দু‘দেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনীকে বিপাকে ফেলবেন না। জাফলং দেখা হয়ে গেলে আপনি যেতে পারেন নদীর ওপারে সমতল ভূমিতে জাফলং চা-বাগান দেখতে। তার পর খাসিয়া পুঞ্জি। পুঞ্জির বাড়ীগুলো দেখতে খুব সুন্দর। মাটি থেকে উ্চুতে এসব বাড়ীতে বসবাস করে আদিকাল থেকে। খাসিয়াদের সমাজ ব্যাবস্থা মাতৃতান্ত্রিক। এখানেও রয়েছে নাজিমগড় রিসোর্টের  ক্যাফে সংগ্রাম পুঞ্জি নামের উন্নত একটি রেষ্টুরেন্ট। ফিরতি পথে তামাবিল স্থল বন্দর। আমাদের সীমান্ত তামাবিল,আর ভারতের ডাউকি। পুরো ডাউকি শহরটি পাহাড়ের উপরে। এই ডাউকি পাড়ি দিয়ে যেতে হয় শিলং। তারপর গোহাটি। আর গোহাটি থেকে সারা ভারত ঘুরে বেড়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে। মাধবকুন্ড বেড়াতে আপনাকে ভাড়া করতে হবে মাইক্রোবাস। সে ক্ষেত্রে ভাড়া হবে ৩ হাজার টাকা আর যদি লাউয়া ছড়া এর সাথে যুক্ত থাকে আরো ৫শত টাকা বেশী দিতে হবে। বিয়ানীবাজার হয়ে মৌলভীবাজারে পাথারিয়া এলাকায় এর অবস্থান। গহীন বনের ভিতর এই জলপ্রপাতটি বাংলাদেশের এক আকর্ষন। ২শ ফুট উচু থেকে পাহাড়ের গা বেয়ে পানি পড়ার দৃশ্য অপরূপ। পানি পড়ার ঝমাঝম শব্দ,বাতাসের সাথে উড়ে আসা ঠান্ডা পানির কনা যখন চোখে-মুখে লাগে তখন এক ভিন্ন অনুভূতির জন্ম দেয়। তবে এখানেও সাবধান ঝর্ণার উৎসমুখ দেখতে যেয়ে উচু পাহাড় ডিঙ্গাতে যেয়ে অনেকই প্রাণ হারিয়েছে। আবার ঝর্ণার অত্যধিক ঠান্ডা পানিতে গোসল করতে যেয়ে অথবা কুপের কোন গর্তে আটকা পড়ে মারা পড়ার কয়েকটি ঘটনাও ঘটেছে। অথচ এসব স্থানে সতর্কবাণীও লেখা আছে। এসব খেয়াল না করলে বিপদ। যদি শুধু আপনি মাধবকুন্ড, চা-বাগান ও লাউয়া ছড়া ইকো পার্ক দেখতে চান তা হলে আপনি বাসে অথবা ট্রেনে করে শ্রীমঙ্গল পৌঁছে যাবেন। সেখান থেকে আরেকটু কম খরচে এসব স্থান দেখতে পারবেন।
সিলেটের অন্যান্য স্পটগুলো দেখতে তেমন সময় লাগবে না, শুধু যানবাহনের ব্যবস্থা হলেই হলো। সে ক্ষেত্রে কোন গাইড এর খুব প্রয়োজন হবে না। আর যদি হাওর ও পাখি দেখার শখ থাকে তা হলে আপনাকে যেতে হবে মৌলভীবাজারের হাকালুকি অথবা সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে। টাঙ্গুয়া এখন বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। রামসার ভূক্ত ৫২ টি হাওরের সমন্বয়ে এই টাঙ্গুয়া বাংলাদেশের এক অনন্য সম্পদ। মাছ আর জলজ উদ্ভিদে পরিপূর্ণ টাঙ্গুয়া । পানির নিচে হরেক প্রজাতির মাছ। আর শীতে অতিথি পাখির পালকে নীল আকাশ ঢাকা পড়ে। টাঙ্গুয়া যেতে যাদুকাটা নদী,নদীর পাড়ে বারাইক্কা টিলা,টেকেরঘাট এলাকা নয়ন জুড়ানো দৃশ্য। সিলেট থেকে রিজার্ভ মাইক্রোবাসে সুনামগঞ্জ যেতে হবে খুব ভোরে । সোয়া ঘন্টা দেড় ঘন্টার জার্নি। ভাড়া ১২শ’ থেকে ১৫ শ’ টাকা। যাত্রীবাহী বাসে সুনামগঞ্জ। সুনামগঞ্জ সাহেববাড়ী ঘাট থেকে ইঞ্জিন নৌকায় সন্ধ্যায় ফিরে আসা। ভাড়া ৩ হাজার টাকা বাজেট। দরদাম করে যেতে হবে।
বর্ষা মৌসুমে নদী ও বিশাল হাওর পাড়ি দিতে হয়। সময় লাগে কম। হেমন্তে একটু বেশী সময় লাগে। হেমন্তে সড়ক পথে। টাঙ্গুয়ার রূপ শীত ও বর্ষায় দু‘ধরনের। চাঁদের আলোতে টাঙ্গুয়ার অপরুপ দৃশ্য নিজকে ভিন্ন এক জগতে নিয়ে যায়। এ দৃশ্য দেখতে হলে সেখানে থাকতে হবে। নৌকায় অথবা তাহিরপুর রাত্রি যাপন করতে হবে। সে ক্ষেত্রে ভিন্ন পরিকল্পনা করতে হবে আগে থেকেই। সে যাক সিলেটের পর্যটন ষ্পটগুলো বৈচিত্রময়। ঘুরলে বোর মনে হবেন না। বর্ষায় ঘুরলে শীত কালে আবার আসতে আপনার মন চাইবেই-কমলা লেবুর বাগান আর কুয়াশার চাঁদরে ঢাকা সিলেট দেখতে।
হুমায়ূন রশিদ চৌধূরীঃ সিনিয়র সাংবাদিক, সিনিয়র সহ-সভাপতি সিলেট প্রেসক্লাব

শেয়ার করুন