ব্যাংকিং সেবাঃ আজকের বাস্তবতা ও করণীয়

মোঃ মাহমুদুর রহমান

ব্যাংক একটি সেবাধর্মী বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের সেবা খাতগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে ব্যাংকিং খাত। দেশী-বিদেশী মিলে মোট ৪৭টি তফশীলি ব্যাংক বর্তমানে দেশে কার্যরত। ২০১২ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় আরও ৯টি ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তি এবং অর্থনীতিবিদদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে মাননীয় অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রয়োজনীয়তা বিবেচনার চেয়ে রাজনৈতিক চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন এই ব্যাংক গুলোর অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা এ খাতের সাথে সম্পর্কিত কারো আগ্রহ ছাড়া নতুন ব্যাংকের প্রতি রাজনীতিবিদদের আগ্রহের কারণ হচ্ছে বিগত বছরগুলোতে এ খাতের অস্বাভাবিক মুনাফা অর্জন। বিগত বছর গুলোতে ধারাবাহিকভাবে বেশীরভাগ ব্যাংকের আমানত, ঋণ ও মুনাফার প্রবৃদ্ধির হার বিশ শতাংশ অতিক্রম করে যাচ্ছে,যদিও সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি সাত শতাংশও অতিক্রম করছে না। কোন দেশের অর্থনীতির প্রকৃত খাতের (উৎপাদনশীল খাত) তুলনায় সেবা বা আর্থিক খাতের অস্বাাভাবিক প্রবৃদ্ধি অর্থনীতিতে সাময়িক বুদবুদের সৃষ্টি করে যা খুব তাড়াতাড়ি মিলিয়ে যায় – সাম্প্রতিক শেয়ার বাজারের ঘটনা প্রবাহে তা দৃশ্যমান। কিন্তু বিস্ময়করভাবে আমাদের ব্যাংকিং খাত তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছে মূলত নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ’বাংলাদেশ ব্যাংক’ এর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং নীতিমালা পরিপালন, ব্যাংকগুলোর পারস্পারিক প্রতিযোগিতার মনোভাব এবং এ খাতে নিয়োজিত কর্মীবাহিনীর সততা আর পেশাদারিত্বের কারণে। হলমার্ক কেলেংকারীর পর ব্যাংকারদের সততা আর পেশাদারিত্বের বিষয়টি জনসাধারণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে মারাতœকভাবে। যদিও এই দুর্নীতির ক্ষেত্রে ব্যাংকারদের তুলনায় শাসকগোষ্ঠীর প্রভাবশালীদের মূখ্য ভূমিকা ছিল বলে পত্র পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে। সামগ্রিক বিবেচনায় দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যাংকারের সংখ্যা অতি নগন্য, যার ফলে অন্যান্য সেবাখাতের তুলনায় ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি নেই বললেই চলে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের খানা জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত ২০১২ সালের জরিপের ফলাফলে দেখা যায়,এবারের সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত খাত হচ্ছে শ্রম অভিবাসন খাত-যেখানে দুর্নীতির শিকার সেবা গ্রহণকারীদের মধ্যে ৭৭% জনগণ। এছাড়া আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষেত্রে ৭৫.৮%, ভূমি প্রশাসনে ৫৯%, বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে ৫৭.১%, স্বাস্থ্য খাতে ৪০.২%, শিক্ষা খাতে ৪০.১% সেবা গ্রহণকারী দূর্নীতির শিকার হন। এই যখন আমাদের বৃহৎ সেবা খাতগুলোর অবস্থা তখন ব্যাংকিং খাতে সেবা গ্রহণকারী জনগনের মধ্যে দূর্নীতির শিকার মাত্র ৭.১% সেবা গ্রহণকারী। অন্যান্য খাতের দুর্নীতির ব্যাপকতার তুলনায় ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি অতি নগণ্য হলেও ব্যাংকের মত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোন ধরণের দুর্নীতি কারো কাছে সহনীয় হতে পারে না। ব্যাংক ব্যবসার মূল ভিত্তি হচ্ছে সেবা প্রদানকারী ব্যাংকারদের উপর সেবা গ্রহনকারী জনগণের আস্থা। যেকোন ধরণের দুর্নীতির সংবাদ তা যে মাত্রারই হোক, এই আস্থার মধ্যে ফাটল ধরাতে পারে যা কোনভাবেই ব্যাংকিং খাত তথা জাতীয় অর্থনীতির সুষ্ঠু বিকাশের স্বার্থে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাই ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতির ধরনগুলো পর্যালোচনা করে এ খাতকে আরও স্বচ্ছ এবং পরিচ্ছন্ন করতে আমাদেরকে করণীয় ঠিক করতে হবে। ব্যাংকের মধ্যে সরকারী ব্যাংকগুলোতে দুর্নীতির হার সবচেয়ে বেশী। টিআইবি‘র এই জরিপে দেখা যায় যে, সরকারী ব্যাংকে দূর্নীতির শিকার ৬২.১% সেবা গ্রহণকারী। আরেকটি সরকারী ব্যাংক ’কৃষি ব্যাংক’ এ দুর্নীতির এই হার ৩২.৮% যা সরকারী ব্যাংক গুলোতে দুর্নীতির ব্যাপকতাই প্রকাশ করে। তবে সাধারণের কাছে দুর্নীতি বলতে ঘুষ কিংবা অর্থ আত্মসাৎকে বুঝালেও টিআইবি‘র এই জরিপে ঘুষ গ্রহণ ছাড়াও সেবা প্রদানে অতিরিক্ত সময়ক্ষেপন, অসহযোগিতা, আংশিক/ভূল তথ্য দিয়ে ঋন গ্রহণে উৎসাহিত করা এবং কাগজ ও দলিল জমা দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগকেও দুর্নীতির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। যেকোন পেশায় ঘুষ গ্রহণ একটি পেশাগত অসদাচরণ। চাকরি বিধি অনুযায়ী ঘুষখোর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায়। এছাড়া, দেশে বিদ্যমান দন্ডবিধি অনুযায়ীও ঘুষ গ্রহণ একটি অপরাধ এবং ফৌজদারী আদালতে এর প্রতিকার চাওয়া যায়। পুরো ব্যাংকিং সেক্টরে যে নগণ্য সংখ্যক কর্মকর্তা ঘুষ গ্রহণের মত হীন কাজে জড়িত তাদেরকে সনাক্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন-যাতে হলমার্কের মত কেলেংকারীতে কোন ব্যাংকার ভবিষ্যতে জড়িত হওয়ার সাহস না করে। বেশীরভাগ ব্যাংকার যারা সৎ জীবন যাপনে অভ্যস্ত তাদেরকে যেন ভবিষ্যতে এইসব কুলাঙ্গারের জন্য সমাজে ছোট হতে না হয় এবং এই পেশার স্বচ্ছতা ও যথাযথ সম্মান বজায় থাকে। ঘুষ ছাড়া অন্যান্য যেসব কারণকে টিআইবি দুর্নীতি হিসাবে চিহ্নিত করেছে সেগুলো সম্পর্কে আলোচনার আগে ব্যাংকিং সেবা প্রদানে কিছু সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে উল্লেখ করা প্রয়োজন। একজন ব্যাংকার ইচ্ছা করলেই যেকোন সেবা একজন গ্রাহককে দিতে পারেন না। তাকে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক ছাড়াও নিজ ব্যাংকের পলিসির মধ্যে থেকে সেবা প্রদান করতে হয়। যেমন একজন ব্যবসায়ী যদি এমন কোন পণ্য/দ্রব্যের উপর ঋণ গ্রহণের জন্য কোন ব্যাংকে যান যে পণ্য/দ্রব্যে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে-তাহলে ঐ ব্যাংকের কর্মকর্তা কোন অবস্থায় তাকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে ঐ ব্যবসায়ীকে খালি হাতে ব্যাংক থেকে ফিরে আসতে হবে। এমতাবস্থায় ঐ ব্যবসায়ীর এসব বিষয়ে জ্ঞান না থাকলে যেকোন জরিপকারীর কাছে তিনি এটাকে অসহযোগিতা হিসেবে উল্লেখ করতে পারেন যা জরিপের ফলাফলকে ভুল পথে তাড়িত করতে পারে। গণমাধ্যমের সহযোগিতায় জনসচেতনা সৃষ্টি করে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের মধ্যে এইসব ভুল বোঝাবুঝির অবসান করা যায়। সবচেয়ে বেশী সমস্যার সৃষ্টি হয় ঋণের বিপরীতে নেয়া বন্ধকী জমি/সম্পত্তির দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে। আমাদের দেশে জমির সুনির্দিষ্ট কোন মূল্য নির্ধারিত নেই। জমি রেজিষ্ট্রেশনের সুবিধার জন্য মৌজা ভিত্তিক দাম নির্ধারণ করা থাকলেও বাস্তবতার সাথে এই মূল্যের কোন মিল নেই। একই মৌজার বিভিন্ন প্রান্তে জমির দামের ব্যবধান কয়েকগুণ বেশী বা কম থাকে। কিন্তু এই কম বেশী বিবেচনা না করে রেজিষ্ট্রেশনের ফি ফাঁকি বন্ধে সরকার মৌজাভিত্তিক মাঝামাঝি একটা দাম নির্ধারণ করে দেন-যা কোনভাবেই জমির প্রকৃত মূল্যের কাছাকাছি কোন দামেরও নির্দেশনা দেয় না। তাই কেউ এক লক্ষ টাকার জমি কিনে পাঁচ লক্ষ টাকা দাম লিখে দলিল রেজিষ্ট্রি করতে বাধ্য হয়, অন্যদিকে কেউ পঁচিশ লক্ষ টাকার জমি পাঁচ লক্ষ টাকার ফি দিয়ে জমির দলিল রেজিষ্ট্রি করার সুবিধা ভোগ করে। এইসব কারণে দলিলে উল্লেখিত দামের উপর নির্ভর করার কোন সুযোগ থাকে না ব্যাংকারদের। ঋণ প্রস্তাব বিবেচনার ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্মকর্তারা বাধ্য হয়ে নিজেরা এবং তৃতীয় পক্ষ হিসাবে পেশাদার সার্ভেয়ার দ্বারা জমি/সম্পত্তির মূল্যায়ন (ঠধষঁধঃরড়হ) করে থাকেন। আর মূল সমস্যাটা হয় এখানেই। সার্ভেয়াররা, ব্যাংকার এবং গ্রাহকের নির্দেশনা অনুযায়ী আর ব্যাংকাররা গ্রাহককে ধরে রাখার স্বার্থে অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বেশী মূল্য ধরে জমির মূল্যায়ন পত্র তৈরী করেন। এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে দেয়া কোন ঋণ যখন খেলাপী ঋণে পরিণত হয়-তখন ব্যাংক জমি বিক্রি করেও পুরো টাকা আদায় করতে পারে না। ফলে ব্যাংক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। শাখা পর্যায়ে অসৎ ও অদক্ষ কর্মকর্তা, প্রধান কার্যালয় কর্তৃক শাখার উপর অধিক মুনাফার টার্গেট নির্ধারণ এবং ব্যাংকগুলোর মধ্যে পারস্পারিক অনৈতিক প্রতিযোগিতার কারণে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংক এই রকম মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে বাধ্য হয়। শাখার মুনাফার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে তাড়িত হয়ে ব্যাংকগুলোর অনৈতিক প্রতিযোগিতার কারণে গ্রাহক পর্যায়ে ভুল বার্তা পৌঁছে। ধরুন একজন ব্যবসায়ী কোন একটি ব্যাংক থেকে বিশ লক্ষ টাকার ঋণ নিতে চাইলেন। ব্যাংক তার প্রস্তাবিত বন্ধকী জমির দাম বিবেচনা করে দেখল তাকে কোন অবস্থায়ই দশ লক্ষ টাকার চেয়ে বেশী দেয়া যায় না। এই ব্যবসায়ী অন্য একটি ব্যাংকে গেলেন এবং ঐ ব্যাংক জমির দাম অতিরিক্ত ধরে বিশ লক্ষ টাকা দিয়ে দিল তার শাখার মুনাফার লক্ষ্যমাত্রা পূরণের বিষয়টি চিন্তা করে যা ব্যাংকিং নিয়ম অনুযাায়ী করা ঠিক হয়নি। কিন্তু ব্যবসায়ী নিশ্চয়ই প্রথম ব্যাংকের অফিসারদের অদক্ষ কিংবা অসৎ বিবেচনা করবেন-কারণ তিনি ব্যাংকের অভ্যন্তরীন ঋণ প্রস্তাব বিবেচনার মেকানিজম সম্পর্কে অবহিত নন। এই সমস্যা সমাধানের জন্য দেশের সব ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান মিলে সবকটি সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার জমির দাম নির্ধারণের ব্যবস্থা করতে পারেন যাতে শাখা পর্যায়ে ব্যাংকাররা নির্ধারিত দামের বাইরে যেতে না পারেন। কারণ সারাদেশের জমির দাম নির্ধারণ করা ব্যয়বহুল এবং সময় সাপেক্ষ আর ঋণের বিপরীতে নেয়া বন্ধকী জমির বেশীর ভাগই সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার অন্তর্গত। আমার মনে হয়,এই কাজ করতে সম্মিলিতভাবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর যে পরিমাণ ব্যয় হবে এর চেয়ে অনেক বেশী ক্ষতি হচ্ছে প্রতিবছর শ্রেণীকৃত ঋণের বিপরীতে অপর্যাপ্ত জামানতের কারণে। এছাড়া, প্রতিদিনের ব্যাংকিং লেনদেনের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ হচ্ছে নতুন হিসাব খোলা, অনলাইনে অন্যের হিসাবে টাকা জমা দেয়া ও বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা উত্তোলন। এই তিনটি ক্ষেত্রে প্র্রত্যেকটি ব্যাংকের নিয়ম প্রায় অভিন্ন। কিন্তু সমভাবে নিয়ম পরিপালন না করার কারণে গ্রাহক মনে সন্দেহের উদ্রেক হয় এবং ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কে ভূল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। যেমন একজন ব্যবসায়ী সিলেট থেকে ঢাকার একটি শাখায় অন্যের হিসাবে পাঁচ লক্ষ টাকা জমা দিতে চাইলেন, ব্যাংক সেক্ষেত্রে তার কাছে আইডি বা অন্য কোন পরিচয় পত্র চাইবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাস্টমার সনাক্তকরনের (কণঈ) নীতিমালার কারণে। কিন্তু কোন কোন ব্যাংক তার গ্রাহক ধরে রাখার প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে আইডি চাচ্ছে না আবার অন্য ব্যাংক চাচ্ছে। এতে যেসব ব্যাংক এসব নীতিমালা পরিপালন করতে যাচ্ছে-তাদের প্রতি গ্রাহকদের ভুল ধারণা জন্ম নিচ্ছে অন্যদের নীতিমালা না মানার কারণে। টিআইবি’র খানা জরিপকারীকে পেলে এরকম গ্রাহক নিশ্চয়ই আইডি চাওয়াকে হয়রানিমূলক কাগজ চাওয়া হিসাবে উল্লেখ করবেন-যা দুর্নীতি হিসাবে প্রকাশিত হবে। কিন্তু আদৌ তা দুর্নীতি নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সময় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জাল নোট সনাক্তকরণ সহ অন্যান্য বিষয়ে জনগনকে সচেতন করে থাকে। সম্প্রতি এমএলএম (গখগ) ব্যবসার প্রতারণা থেকে সচেতন থাকার জন্যও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। একইভাবে ব্যাংকের সাধারণ সেবাগুলো পেতে গ্রাহককে কোন কোন জিনিস সাথে নিয়ে ব্যাংকে যেতে হবে তা বিজ্ঞাপন দিয়ে জানালে গ্রাহক সচেনতা আরও বাড়বে এবং গ্রাহক হয়রানি কমবে। আমার বিশ্বাস বাংলাদেশ ব্যাংক এই উদ্যোগ নিলে ব্যাংকার-কাস্টমার ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে। ভবিষ্যৎ জরিপে দুর্নীতির হার হয়ত শূন্যের কাছাকাছি চলে আসবে। আমরা সবাই চাই একটি সুন্দর, স্বচ্ছ ব্যাংকিং খাত যা ধারাবাহিকভাবে যৌক্তিক প্রবৃদ্ধির হার বজায় রাখার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন এবং অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ন অবদান রাখবে। লেখকঃ ব্যাংক কর্মকর্তা

mahmudpukra@gmail.com

 


শেয়ার করুন