ছাতকে দুরবিন শাহ লোক উৎসব শুরু শুক্রবার

ছাতক পাবলিক খেলার মাঠে শুক্রবার থেকে দু’দিনব্যাপী (১৮ ও ১৯ জানুয়ারি) দুর্বিন শাহ লোক উৎসব শুরু হচ্ছে। এ উপলক্ষে পাবলিক খেলার মাঠকে নতুন সাজে সাজানো হয়েছে। পুরোদমে লোক উৎসব পরিচালনার আয়োজন চালিয়ে যাচ্ছেন উৎসব পরিচালনা পরিষদ। নির্মাণ করা হয়েছে একটি তোরণ। ১৮ জানুয়ারি দুপুরে এ উপলক্ষে শহরে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালী অনুষ্ঠিত হবে। স্াংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন, পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী। বিকেলে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখবেন, সাবেক এমপি এডভোকেট আব্দুল মজিদ পিপি, উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ বেতার সিলেট’র আঞ্চলিক পরিচালক মীর শাহ আলম, অধ্যাপক রমজান আলী, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ হারিছ আলী, নাসিম হোসাইন। ১৯ জানুয়ারির আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখবেন, সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম আম্বিয়া মাজকুর পাবেল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আইনুর আক্তার পান্না, ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মুনসিফ আলী, অধ্যক্ষ মঈন উদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক শওকতুল হাসান চৌধুরী। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন, লোক উৎসব পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ডাঃ আফসার উদ্দিন। বাংলাদেশের মানচিত্রে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক’র পরিচয় শিল্প শহর হলেও এ জনপদের লোকজ সংস্কৃতির ঐতিহ্য সু-প্রাচীন ও সর্বজনবিদিত। লোকজ সংস্কৃতির নান্দনিক ধারায় এ অঞ্চলে যারা যুগ-যুগ ধরে অবদান রেখেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মরমী কবি সাধক দুর্বিন শাহ। প্রতিভা দিয়ে তিনি ছাতককে অনেক ক্ষেত্রে উজ্জ্বল করে তুলে ধরেছেন। বৃটেনে জ্ঞানের সাগর উপাধিতে ভূষিত মরমী সাধক দুরবিন শাহ ১৩২৭ বঙ্গাব্দের ১৫ কার্তিক ছাতক শহরের অদূরে নোয়ারাই এলাকার তারামনি টিলায় জন্ম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তার নামানুসারে টিলাটি দুরবিন শাহ টিলায় নামকরন করা হয়। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ৩ ফাল্গুন নিজ বাড়ীতে মৃত্যুবরণ করেন মরমী এ সাধক। অসংখ্য গানের রচয়িতা ও সুরকার তিনি। “মারিয়া ভূজঙ্গ তীর কলিজা করিল চৌচির, কেমন শিকারী তীর মারিল গো—, “নির্জন যমুনার কুলে বসিয়া কদম্বতলে, বাজায় বাঁশি বন্ধু শ্যামরায়—-, “বন্ধু যদি হইতো নদীর জল, পিপাসাতে পান করিয়া পুড়াপ্রাণ করতাম শীতল—, “ও বাঁশের বাঁশিরে কেন ডাক রাঁধা-রাঁধা বলে—–, “ভাঙ্গা তরি লইয়ারে ভব নদী বাইয়া, ছিড়া বাদাম উজান হাওয়া কেমনে দিতাম পাড়ি—–, “কি সুখ পাইলে বন্ধু আমারে ভুলিয়ারে–, আমি জন্মে-জন্মে অপরাধী তোমারি চরনে, হায় গো—’ এসব জনপ্রিয় গানের রচয়িতা ও সুরকার ছিলেন তিনি। তার বেশ ক’টি গানের বই প্রকাশিত হয়েছে। মৃত্যুর পর ২০০৩ সালে তার পান্ডুলিপি থেকে সংগ্রহ করে শতাধিক গান নিয়ে দুরবিন শাহ গীতিমালা গ্রন্থ প্রকাশ করেন দুরবিন শাহ গবেষনা পর্ষদ ছাতক।

শেয়ার করুন