ঘুঁড়ি উৎসবঃ ইটপাথরের শহুরে শুভ্র আকাশে উড়লো লাল, নীল, হলুদ, সাদা ঘুড়ি

শহুরে সভ্যতায় এটা কল্পনাতীত। চারিদিকে ইটের বিল্ডিং। মাঝখানে খোলা মাঠের আকাশজুড়ে ওড়ছে কত শত রঙ্গিন ঘুঁড়ি। গ্রাম বাংলার অবিচ্ছেদ্য সংস্কৃতির এই উৎসব এবার শহরও মাতালো। সিলেট এমসি কলেজ মাঠে লাল, নীল, হলুদ, সাদা ঘুড়ি উড়লো শুভ্র আকাশে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতেও প্রদর্শন করা হয় বাহারী রঙ্গের ঘুঁড়ি। ঘুড়ির এই আনন্দ উৎসবে সিলেটের বিভিন্ন শ্রেণীপেশার হাজারো মানুষ যোগ দেন। উৎসবে আসেন দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত।
উৎসবে তিনি বললেন, ‘‘বাঙালি সংস্কৃতিতে ঘুড়ি একটি অবিচ্ছেদ্য উপাদান। গ্রামবাংলায় ঘুড়ি ওড়ানো এখনো খুবই জনপ্রিয় একটি খেলা। পৌষসংক্রানিত্মতে ভাটি অঞ্চলে ঘুড়ি উড়ানো হয়। আকাশে ঘুড়ি দেখে তিনি ৫০ বছর আগের তার শৈশবে ফিরে গেছেন বলেও জানান।
শনিবার সকালে সিলেট এমসি কলেজ মাঠে ঘুড়ি উৎসবের উদ্বোধন করেন নগরপিতা বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। দুপুরে উৎসব অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত।
শিশু কিশোর দল আর তরম্নণ তরম্নণীরা উৎসেরব আনন্দে মেতেছে ঘুঁড়ির সাথে। ইট পাথরের শহরে ঘুড়ির এই উৎসবে তারা হারিয়ে গেছে বাঙ্গালী সংস্কৃতির চিয়ারত রম্নপে।
তাই বক্তব্যে সুরঞ্জিত বললেন, এটা একেবারেই লোকজ উৎসব। আমাদের চিরায়ত রম্নপ এই ঘুড়ি উৎসবে দেখতে পাই।
তিনি আরো বলেন, শহর সভ্যতার মাঝখানে গ্রামীণ আয়োজন মানুষকে নির্মল আনন্দ দিতে পারে এর প্রমাণ ঘুঁড়ি উৎসব।
দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় কেটেছে। এই মাঠের পাশে ছাত্রাবাসে তিনি দু’বছর থেকেছেন। এই মাঠে ঘুরে বেড়িয়েছেন। তাই এই মাঠের সঙ্গে তার জীবনের সু-সম্পর্ক রয়েছে। সেই মাঠে ঐতিহ্যের ঘুঁড়ি উৎসব দেখে তিনি আনন্দে উদ্বেলিত।
গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য কে তুলে ধরতে ঘুঁড়ি উৎসব আয়োজন প্রচেষ্টাকে একটি শুভ উদ্যোগ বলে উলেস্নখ করেন মন্ত্রী।
সুকুমারবৃত্তি বিকাশের লক্ষ্যে প্রতিবছর এই উৎসবের আয়োজন করা হবে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন উৎসবের আয়োজক সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ।
ঘুঁড়ি উৎসব দেখতে প্রবীণ দেশখ্যাত ক্রীড়াবিদ রণজিত দাস বাংলানিউজকে বলেন, ‘‘পৌস সংক্রানিত্মতে ভাটি অঞ্চলে এটি একটি বড় উৎসব। শহুরে এটি দেখে খুবই ভালো লাগছে। গ্রামীণ হারিয়ে যাওয়া খেলাগুলো শহুরে ব্যাসত্ম মানুষকে নির্মল আনন্দ দিতে পারে বলে জানান তিনি।
উৎসব শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরম্নষ্কার বিতরণ করেন দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তসহ অতিথিরা।

শেয়ার করুন