পরাগ অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী পলাতক

রাজধানী ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জ থেকে ছয় বছরের শিশু পরাগ মণ্ডলকে অপহরণ করার ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কেরানীগঞ্জ ও জুরাইন এলাকা থেকে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) তাঁদের আটক করে। তবে অপহরণ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী আমিরসহ তিনজন এখনো পলাতক।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে র‌্যাবের সদর দপ্তরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন: মো. আলী রিফাত (১৯), মো. জাহিদুল হাসান (১৮), মো. কালাচান (৩৫), রিজভী আহমেদ অনিক (১৮), মো. আলফাজ হোসেন (১৮) ও মো. আবুল কাশেম (৩৩)। এ ছাড়া পরাগকে অপহরণ করার সময় দুর্বৃত্তদের ব্যবহূত তিনটি মোটরসাইকেলের মধ্যে একটি উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আলফাজ সাংবাদিকদের সামনে কোনো কথা বলেননি।
র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার এম সোহায়েল জানান, র‌্যাব-১০-এর একটি দল অভিযান চালিয়ে গতকাল রাত দেড়টার দিকে আবুল কাশেমের জুরাইনের বাড়ি থেকে আলী রিফাত, মো. জাহিদুল হাসান, মো. কালাচানকে আটক করে। আলফাজ হোসেনকে ওই এলাকা থেকেই আটক করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
সোহায়েল আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত আমির এক মাস আগে জেল থেকে বের হয়ে এই অপহরণের পরিকল্পনা করে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপস্থিত অটোরিকশাচালক কালাচান বলেন, বিমল মণ্ডলের পরিবারের লোকজনের আসা-যাওয়ার তথ্য না জানালে তাঁকে গুলি করা হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন আমির। আর তথ্য জানালে তাঁকে একটি নতুন অটোরিকশা কিনে দেওয়া হবে বলে লোভ দেখানো হয়। লোভে পড়ে তিনি কয়েক দিন ধরে ওই পরিবারের সদস্যদের ওপর নজর রাখেন এবং আমিরকে সব তথ্য জানান। তবে পরাগকে অপহরণ করে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়, তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেন।
অপহরণে সরাসরি অংশ নেওয়া জাহিদুল ও আলী রিফাত সাংবাদিকদের জানান, অপহরণের বিষয়ে তাঁরা আগে থেকে কিছু জানতেন না। কেরানীগঞ্জে আমিরের কেনা নতুন জমি দেখার জন্য তাঁদের সেখানে যেতে বলা হয়। অপহরণের পর তাঁরা পরাগকে নিয়ে বসিলা সেতু পর্যন্ত যান। সেখানে আমির তাঁদের কাছ থেকে মুঠোফোন নিয়ে নতুন মুঠোফোন দেন এবং পরাগকে নিয়ে চলে যান। তবে কোথায় নিয়ে যান, তা তাঁরা জানতেন না।
আমিরের ভগ্নিপতি আবুল কাশেম জানান, আমির জেলে ছিলেন। এক মাস আগে জেল থেকে বের হয়ে তিনি কী করতেন, তা তাঁর জানা নেই। অপহরণের ব্যাপারে তিনি কিছু জানতেন না। গত মঙ্গলবার রাতে জাহিদুল, রিফাত ও কালাচান তাঁর বাসায় গিয়ে আমিরের খোঁজ করেন। এর মধ্যে জাহিদুল প্রায়ই আমিরের সঙ্গে তাঁর বাসায় যেতেন বলে তিনি তাঁকে চিনতেন। সেই সূত্রে এই তিনজনকে রাতে তাঁর বাড়িতে থাকতে দেন তিনি।
পরে র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার এম সোহায়েল জানান, পরাগের অপহরণ ঘটনায় জড়িত মূল হোতা আমিরসহ বাকি তিনজনকে আটক করতে অভিযান চলছে।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে কেরানীগঞ্জের আটিবাজার মিল এলাকায় পরাগকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারীরা। এরপর পরাগের বাবা বিমল মণ্ডল তাঁকে উদ্ধার করে রাতেই রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান।
গত রোববার সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা পশ্চিমপাড়ায় তাদের বাসার প্রায় ৫০ গজ দূরে গলির মুখে বোন পিনাকি মণ্ডলের পায়ে ও মা লিপি মণ্ডলের বুকে গুলি করে ছোট্ট পরাগকে ছিনিয়ে নিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। পরাগ সদরঘাটের হিড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে কেজি ওয়ানের ছাত্র।

শেয়ার করুন