হৃদরোগ থেকে বাঁচার উপায়

যারা হৃদরোগে আক্রান্ত এবং হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে চান তাদের জন্য আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে কিছু নিয়ম মেনে চলতে বলেছেন। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো-অধিকতর শারীরিক পরিশ্রম
আপনার কর্মশীলতাই হৃদরোগ ঝুঁকি কমিয়ে দেবে। প্রতিদিন ন্যূনতম ৩০ মিনিট ব্যায়ামের ফলে হৃদরোগ ঝুঁকি কমবে। নিয়মিত ব্যায়াম রক্তচাপ কমায়, ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়, ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে, ওজন নিয়ন্ত্রণ করে এবং নিজের মধ্যে সুস্থতার অনুভূতি এনে দেয়।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ
কোলেস্টেরল এক ধরনের নরম চর্বি জাতীয় দানাদার পদার্থ, যা আমাদের রক্তে এবং দেহকোষে থাকে। কোলেস্টেরল শরীরের একটি স্বাভাবিক উপাদান, যা কোষের আবরু এবং হরমোন তৈরির উপাদান। কিন্তু অতিমাত্রার কোলেস্টেরল হৎপিণ্ড এবং রক্তনালির অসুখের ঝুঁকি বাড়ায়।
কোলেস্টেরলের দুটি উৎস। যার একটি হচ্ছে আমাদের শরীর এবং অন্যটি খাদ্য। আমাদের রক্তে যে পরিমাণ কোলেস্টেরল থাকে তার মধ্যে লিভার বা যকৃৎ এবং দেহকোষ থেকে ৭৫% কোলেস্টেরল উৎপন্ন হয়। ২৫% আসে খাদ্য থেকে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা
উচ্চ রক্তচাপ হার্ট অ্যাটাকের বড় ধরনের ঝুঁকি। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে এবং আপনার মৃত্যুর কারণও হতে পারে। এটাকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। কারণ এটা অনেক সময় কোনো শারীরিক উপসর্গ ছাড়াই বিদ্যমান থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, খোদ আমেরিকায় প্রতি তিনজনে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের উচ্চ রক্তচাপ আছে।
ধূমপান থেকে বিরত থাকা
অল্প বয়সে মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যাওয়ার অন্যতম উপায় ধূমপান পরিত্যাগ করা। ধূমপান অ্যাথোরোসক্লেরোসিস এবং অনেক Chronic অসুখ বিসুখের কারু। রক্তনালিতে চর্বিজমা হলে একে অ্যাথোরোসক্লেরোসিস বলে। মানুষের হার্টের রক্তনালিতে চর্বি জমে করোনারি আরটারি ডিজিজ সৃষ্টি হয়ে স্ট্রোক এবং মাওয়োকারডিয়াল ইনফারকশনের ঝুঁকি বাড়ায়। অ্যাথোরোসক্লেরোসিস প্রতিরোধ করতে পারলে বা কমাতে পারলে এসব অসুখ থেকে মুক্ত থাকা যাবে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
যাদের বয়স ২০ এবং তার চেয়ে বেশি তারাই ওজন অধিক্য বা স্থূলতাজনিত রোগে ভোগেন বেশি। করোনারি আরটারির অসুখের জন্য অতিরিক্ত ওজনকে প্রধানত একক ও প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়। কোমরে বেশি চর্বি জমে কোমরের মাপ বেড়ে গেলে তা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি অতিরিক্ত ওজন খারাপ কোলেস্টেরলের বাড়াতে ভূমিকা পালন করে।

শেয়ার করুন