শোকে শোকাহত স্বরস্বতীপুর

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের র্ধমপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের পাশুয়া হাওর পাড়ের একটি গ্রামের নাম স্বরস্বতীপুর । চারদিকে থৈ-থৈ পানি থাকায় এ গ্রামটিকে বর্ষাকালে অনেকটা দ্বীপের মতো মনে হয়। গত শুক্রবার রাতে ওই গ্রামের একটি অস্থায়ী মসজিদে তারাবির নামাজ আদায়কালীন সময়ে বজ্রপাতে ১৩ জন নিহত হন ও ১৫ জন আহত হন। এ ঘটনায় সারা গ্রাম জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসছে । এখানকার অধিকাংশ মানুষই দরিদ্র । হাওরে মাছ ধরে ও কৃষিকাজ করে তাঁদের জীবন চলে ।
নিহতদের লাশ গতকাল শনিবার দাফন করা হয়েছে । একের পর এক লাশ দেখে অনেকেই   ভয়ে আতকে উঠছেন । একসাথে এতো লাশ এখানকার মানুষ এর আগে কখনো দেখেনি। পরিবারদের স্বজন হারানোরদের কান্নাদেখে কাঁদছেন  তাঁদের দেখতে আসা অসংখ্য মানুষ । পূরো গ্রামটিই যেন স্বজন হারানোর শোকে কাঁদছে ।
বজ্রপাতে নিহত মৎস্যজীবি হযরত আলী (২০) । তাঁর তিনভাই ও তিনবোন নিয়ে আট সদস্যের পরিবারটি তার একমাত্র আয়ের ওপর চলতো । বাবা কাছম আলী দীর্ঘদিন ধরে  অসুস্থ ।  হযরত আলীর মা কল্পনা আক্তার (৪০) বারান্দায় বসে ছেলে হারানোর শোকে বিলাপ করে চিৎকার দিয়ে কাঁদছেন। আর বলছেন বাবা তুই কইছছ নামাজ পইড়াই রাইতের কাওন কাইবে । হযরত তুই খাইছছন দেইখ্যা আমরাও খাইছিনা । বাবা কাছম আলী কিছুই বলছেন না শুধু   দুচোখ দিয়ে শুধু জল গড়িয়ে পড়ছে।
নূরুল ইসলাম (৪০) এর স্ত্রী স্বামীকে হারিয়ে কাঁদছেন আর একটু পর পর মূর্ছা যাচ্ছেন । তার মেয়ে মনিরাজ আক্তার (১৩) কেঁদে কেঁদে বলছিল ,বাবা নামাজ পইড়া আমরার বেহেরে লইয়া খাইতো আছিন ।বাবা খাইছেনা ,আমরাও খাইছিনা । আল্লাহ তুমি এ ক্যান এই গজব দিলা। সরেজমিনে গতকাল শনিবার দুপুরে এ গ্রামে গেলে এ দৃশ্য চোখে পড়ে ।
নিহতদের দেখতে সকালে স্থানীয় সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও দুপুরে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী ,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো.ওলিউর রহমান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ।
দূর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া ওই গ্রামের মো. রমজান আলী জানান, আমরা ৩৫/৪০ জন মুসুল্লী মাত্র দুইরাকায়াত নামাজ শেষে সালাম ফিরিয়েছি এ সময় দেখতে পাইযে পানজিখানা ঘরের উত্তর পাশ থেকে একটি আগুনের রঙের রশি ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে এবং একটি বিকট শব্দ হয় এবং সবাই পেছনের দিকে হেলে পড়ে যায় । আমি তা দেখে চিৎকার দিলে স্তানীয় লোকজন এসে রাতেই হাসপাতালে নিয়ে যায় । একথা বলে তিনি আর কিছুই বলতে পারেননি। হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন,জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা  ও আহত ছয়জনকে  তিনহাজার করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে । ইতিমধ্যে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে পাঁচ হাজার ও আহত ছয়জনকে তিনহাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে । অবশিষ্ঠ টাকা আগামীকাল দেওয়া হবে।
স্থানীয় সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন,এ অনাকাঙ্কিত দূর্ঘটনা কোনো অবস্তাতেই মেনে নিতে পারছিনা । নিহত ও আহত পরিবারদেরকে সহায়তা করতে আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নিহত ১৩ জন  ও আহত ছয়জনের পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা করে আর্খিক সহায়তা দিয়েছি । আমি সবসময় জনগণের পাশে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো ।

শেয়ার করুন