নবীগঞ্জে পিতৃ পরিচয়ের দাবিতে সমাজ পতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেরাচ্ছে অবুঝ শিশু আকলিমা!

নিজস্ব প্রতিবেদক : আকলিমা বেগম, বয়স ৮ বছর। বাড়ি হবগিঞ্জের নবীগঞ্জ পৌর এলাকার হরিপুর গ্রামে। হত্যার হুমকি মাথায় নিয়ে পিতৃ পরিচয়ের দাবিতে সৌদি প্রবাসী আব্দুস সামাদের বাড়ির আশপাশে ঘুরাফেরা করছে অবুঝ শিশু আকলিমা। ৬ বছর বয়সে ভর্তি হয়েছিলো স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। লেখা-পড়াও চলছিলো ঠিকটাকমত। কিন্তু বিপত্তি ঘটে তখনই যখন তার পিতার কলাম খালি দেখতে পান ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। তাকে জম্ম নিমন্ধন সনদ আনার জন্য বললে তার মা কন্টরী বেগম স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর এটিএম সালামের কাছে যান কিন্তু কাউন্সিলর কন্টরীকে আকলিমার জম্ম নিমন্ধন সনদ দিতে অপরগতা প্রকাশ করেন। ফলে বন্ধ হয়ে যায় আকলিমার লেখা-পড়া। শুরুতেই হোচট খায় আকলিমা।
এ খবর পেয়ে সরেজমিন ঘটনাস্থলে গেলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চ্যলকর তথ্য। এলাকাবাসী জানান, প্রায় ৯ বছর পূর্বে পৌর এলাকার হরিপুর গ্রামের মৃত ছনর মিয়ার দ্বিতীয় কন্যা রাবেদা বেগমের (কন্টরী) সাথে একই গ্রামের কবির মিয়ার দ্বিতীয় পুত্র আব্দুস সামাদের প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে। সামাদ কন্টরীকে বিয়ে করতে চাইলেও বাধঁ সাধে তার পরিবার। এক পর্ষায়ে অন্তঃসত্বা কন্টরীকে নিয়ে বিপাকে পড়ে ছামাদ। কন্টরীর দরিদ্র পিতা ছনর মিয়া তার মেয়েকে পুত্র বধু করে গর্ভের সন্তানের স্বীকৃতি দিতে সামাদের পরিবারের উপর চাপ দেয়। তখন সামাদের পিতা ও তার একমাত্র ফুফু একই গ্রামের সৌদি আরব প্রবাসী আলাউদ্দিনের স্ত্রী বদরুন্নেছা কন্টরীকে বধু হিসেবে বরণ করার ব্যাপারে ছনর মিয়াকে আশ্বস্থ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তারা সেটা না করে হুমকি ধামকি দেয়া শুরু করলে বাধ্য  হয়ে ছনর মিয়ার পরিবার আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশি¬ষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য নবীগঞ্জ থানায় প্রেরণ করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুল মালেক ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ মামলাটি চুড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করলেও আদালত সেটি গ্রহন না করে মামলাটি আমলে নেন। মামলা চলাকালীন সামাদের পরিবার স্থানীয় মুরব্বীয়ান ও পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান তোফাজ্জুল ইসলাম চৌধুরীর মধ্যস্থতায় কন্টরীর পরিবারের সাথে আপোষরফা করেন। কথা ছিলো কন্টরীর গর্ভের সন্তানের স্বীকৃতি দিবে সামাদ কিন্তু চতুর সামাদ এক পর্ষায়ে সৌদি আরব চলে যায়। দীর্ঘদিন পরে সে সৌদি আরব থেকে দেশে এসে পুনরায় তার প্রেম নাটক শুরু করে। একইভাবে সে বাহুবল উপজেলার কবিরপুর গ্রামের আব্দুল মন্নাফের দ্বিতীয় কন্যা হাফসা বেগমকে নিয়ে ঢাকায় চম্পট দেয়। ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে ওই গ্রামের আব্দুল মন্নাফের ভাই আব্দাল আহমদ সামাদের পরিবারের উপর চাপ প্রয়োগ করে কবিরপুর গ্রামে সামাদকে ফিরিয়ে এনে তাদের বিয়ে দেয়া হয়। কন্টরীর মামলার কোন সুরাহা না হলেও বর্তমানে সামাদ নববধুকে নিয়ে তার বাড়িতে অবস্থান করায় এলাকায় নানান আলোচনা সমালোচনা চলছে। বাড়ীর চার পাশে পিতৃ পরিচয়ের দাবিতে ঘুর ঘুর করছে অবুঝ শিশু আকলিমা। সামাদের বাড়ির আশপাশে আকলিমা তার পিতার কাছে যেতে চাইলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় হচ্ছে।

শেয়ার করুন