জমকালো ঈদ ফ্যাশন

মুসলিম বিশ্বে সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদুল ফিতর। আমাদের দেশে এই ঈদ সামনে রেখে নতুন পোশাকে সেজেছে সবগুলো ফ্যাশন হাউস। আর রাত দিন খেটে এই পোশাকের ডিজাইন করছেন ডিজাইনাররা।
ক্রেতাদের কাছে দেশি পোশাক জনপ্রিয় করতে, দেশীয় ফ্যাশন হাউস এবং ডিজাইনারদের নির্বাচিত পোশাক নিয়ে মিডিয়া হাউজের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠীত হলো বাংলানিউজ লাইফস্টাইল ঈদ ফ্যাশন প্রতিযোগিতা ২০১২।
মনোমুগ্ধকর এই আয়োজনে একঝাঁক তরুণ মডেল ঝলমলে পোশাকে দ্যুতি ছড়িয়েছেন। আর বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন, দেশখ্যাত ফ্যাশন হাউস অঞ্জনসের স্বত্বাধিকারী শাহিন আহমেদ, নগরদোলার স্বত্বাধিকারী আলী আফজাল, ফ্যাশন ডিজাইনার জাওয়াদ আরিফ ও ফ্যাশন বিষয়ক প্রশিক্ষক মাহমুদ রেহান।
ফ্যাশন শোতে স্থান পাওয়া প্রতিটি পোশাকই ছিল ডিজাইন এবং মানে অনন্য। ছোট্ট মডেল রাইসা যখন ছন্দের তালে তালে মডেলদের হাত ধরে স্টেজে হাঁটছিলো, হলভর্তী দর্শক যেন পলক ফেলতে পারছিলেন না
প্রায় তিনঘণ্টাব্যাপী তিনটি পর্বে পোশাক প্রদর্শীত হয়। এরই ফাঁকে চলে সাম্প্রতিক ফ্যাশন নিয়ে বোদ্ধাদের প্রাণোবন্ত আলোচনা।
আলোচনায় অংশ নেন, শাহিন আহমেদ, আলী আফজাল, মাহমুদ রেহান, বাংলানিউজের কনসালটেন্ট এডিটর জুয়েল মাজহার, হেড অব নিউজ মাহমুদ মেনন, চিফ অব করেসপন্ডেন্ট আহমেদ রাজু।
এর আগে দেশের বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসগুলোর সেরা ডিজাইন জমা হয় বাংলানিউজের লাইফস্টাইল বিভাগে। লাইফস্টাইল এডিটর শারমিনা ইসলামের সমন্বয়ে সেখান থেকে বাছাই করা ডিজাইনগুলো নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় এ প্রতিযোগিতা।
শামীম হোসেনের সাবলীল উপস্থাপনায় বাংলানিউজের কনসালট্যান্ট এডিটর জুয়েল মাজহার তার আলোচনায় দেশীয় ফ্যাশনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ফ্যাশন এখন আর শুধু উচ্চবিত্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মধ্যবিত্তরাও এখন অনেক বেশি ফ্যাশন সচেতন।
তিনি ফ্যাশনের সম্ভাবনা নিয়ে বলেন, “আগে আমরা একজন বিবি রাসেলকে চিনতাম। এখন আমাদের দেশে অনেক সম্ভাবনাময় তরুণ ডিজাইনাররা ভালো কাজ করছে। মেধা আর মননের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলে এদেশের ফ্যাশন একদিন বিশ্ববাজারে সবার কাছে সমাদৃত হবে। তবে তিনি ফ্যাশন হাউসগুলোর প্রতি পোশাকের মানের দিকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।”
মাহমুদ মেনন বাংলানিউজের পক্ষ থেকে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “এমন সুন্দর আয়োজনে যারা সহযোগী হয়েছেন, তারা নিঃসন্দেহে একটি ভালো কাজকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্নটিই লালন করেন। এ স্বপ্নকে সমৃদ্ধ করতে আরো আন্তরিক হয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। এ আয়োজনের সব শুভার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।”
আহমেদ রাজু বলেন, “ফ্যাশন নিয়ে অনুশীলনের ফলে আমাদের তরুণ প্রজন্ম অনেক ভালো ডিজাইন করতে সক্ষম হচ্ছে। ক্রমেই তারা তাদের উজ্জ্বল আলো ছড়াতে শুরু করেছে। এ শিল্পকে আরো বেশি সমৃদ্ধ ও সমাদৃত করে তুলতে হবে।”
ইন্টেরিয়র অ্যান্ড ফ্যাশন ডিজাইনার, মোহাম্মাদ রাকিব খানের কোরিওগ্রাফিতে ফ্যাশন হাউসগুলোর পোশাকে মঞ্চ আলোকিত করে তরুণ মডেলশিল্পীরা।
মিষ্টার অ্যান্ড মিস ফ্রেশলুক ২০১২ থেকে নির্বাচিত বেশ ক’জন মডেল ছিলেন এ তালিকায়। তাদের মধ্যে ছিলেন অনুপ, নিশা, সজিব, জেনেট, ইমরান, মৌ, শোভন ভূইয়া, অপূর্ব এবং শাহেদ।
এছাড়াও ছিলেন, জনি সাহা, জনি বাবু, শোভন কাপুর, স্বর্ণ, সিফাত, সানজু, অহনা ও শিশুশিল্পী রাইসা।
শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, টি-শার্ট নিয়ে ফ্যাশনশিল্পীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। মনোমুগ্ধকর বিভিন্ন ডিজাইনের এসব পোশাকে যখন শিল্পীরা একের পর এক মঞ্চে আসছিলেন, তখন উপস্থিতিদের হাতে বেজে উঠেছিল করতালির ঝড়। শিল্পীরাও নিপূণভাবে উপস্থাপন করেন তাদের পরিবেশনা।
বিচারক শাহীন আহমেদ বলেন, “আমাদের ফ্যাশন ডিজাইন অনেক বেশ উন্নত হয়েছে। প্রতিযোগিতায় স্থান পাওয়া পোশাকের ডিজাইন সেটিই প্রমাণ করে।” তিনি বলেন, ‘সত্যিই দ্বিধায় পড়ে গেছি কোন পোশাক রেখে কোনটিকে বেশি নম্বর দেব।’
প্রতিযোগিতার অপর বিচারক আলী আফজাল বলেন, “সত্যিই সব ডিজাইনগুলো ছিল মুগ্ধ করার মতো। ডিজাইনাররা তাদের সচেতন ও মননশীল চিন্তার প্রকাশ করেছেন।”
প্রতিযোগিতায় বাছাইকৃত ফ্যাশন হাউসগুলোর মধ্যে যে পোশাকগুলো সেরা মনোনিত হয়েছে, টি-শার্টে দেশ অ্যাটায়ার, নরমাল শাড়ি-ফারজানা’স ব্লিস, শেরওয়ানি-ফারজানা কালেকশান, ফরমাল শার্ট-মুসলিম কালেকশান, এক্সক্লুসিভ শাড়ি- উত্তরাঙ্গণ, কুর্তা-উপস্, নরমাল থ্রি-পিস মেঘ, পাঞ্জাবি-গোল আকার, শিশুর পোশাক-নিখুঁত বাংলাদেশ, এক্সক্লুসিভ সালোয়ার কামিজ-নীলকণ্ঠ, লং কামিজ-তাজুশীর, যোগী ও ফ্যাশনেবল শার্ট-শান্তা মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাশন বিভাগের শিক্ষার্থী।
প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে বাংলানিউজের লাইফস্টাইল এডিটর শারমিনা ইসলাম বলেন, “সবার সহযোগিতা না থাকলে এ আয়োজন সম্ভব হতো না।” সহযোগিতার জন্য তিনি নন্দন গ্রুপের মার্কেটিং ম্যানেজার জোবায়েদ আল হাফিজকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। সেইসঙ্গে কৃতজ্ঞতা জানান বিচারক ও অংশগ্রহণকারী সব প্রতিষ্ঠানকে।

শেয়ার করুন