গোলাপগঞ্জে সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১২ : গ্রেফতার-৪

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি :  সিলেটের গোলাপগঞ্জের শরীফগঞ্জ ইউপির কুশিয়ারা অঞ্চলের বসন্তপুর এলাকায় একটি রাস্তাকে কেন্দ করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় থমথম বিরাজ করছে। উক্ত ঘটনার জের ধরে  প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়েছেন

এক পক্ষের ২ ব্যক্তি। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১২ জন। এনিয়ে গতবৃহস্পতিবার বসন্তপুর এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত  বৃহস্পিতিবার সকালে। ওই রাতেই গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশ এজহার ভুক্ত ৪ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। আহতদের স্থানীয় ও জেলা হাসপাতালে ভর্তী করা হয়েছে। এব্যপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় ৪৫ জনকে আসামী করে ও অজ্ঞাতনামা আরো ৮/১০ জনকে উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং- ৩। তারিখ- ৩-৮-১২ ইং। নিহতরা হলেন উপজেলার শরিফগঞ্জ ইউপির বসন্তপুর গ্রামের ছানা মিয়ার পুত্র রানা মিয়া (২২) ও একই এলাকার মাসুক মিয়ার পুত্র রানা (২১), ঘটনার সংবাদ পেয়ে গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে না পেরে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বাদ জুম্মা নিহতদের নিজ এলাকায় জানাযার নামাজ শেষে দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।
এদিকে গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন,  একই এলাকার জয়নাল আবেদীন (৫৪), মৃত অলিউর আলীর পুত্র নজির আলী (৬৫), মৃত নানু মিয়ার পুত্র মবু মিয়া (২৬) ও আব্দুল খালিকের পুত্র মাতাব উদ্দিন ( ২৮) বলে জানাযায়। ঘটনার সংবাদ পেয়ে গতকাল শুক্রবার সহকারী পুলিশ সুপার ও গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্য ইমদাদুল হক শেখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এরিপোট লেখা পর্যন্ত গতকালও ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছেন বলে জানাযায়। সংঘর্ষে আহতরা হলেন, রুমেল আহমদ, আব্দুল কাদির মন্টু, চেরাগ মিয়া, ময়মুন বিবি ও আকবর আলী। বাকি আহতদের নাম তাৎক্ষনিক জানাযায়নি। আহতদের স্থানীয় ও জেলা ওমেক হাসপাতালে ভর্তী করা হয়েছে।
স্থানীয় ও থানা সুত্রে জানাযায়, উপজেলার কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী পল্লী অঞ্চলের ১১ নং শরিফগঞ্জ ইউপির বসন্তপুর গ্রামে বসন্তপুর দক্ষিন পাড়া রাস্তা নিয়ে বাহার উদ্দিনের সাথে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছে একই এলাকার প্রতিবেশি কামিল উদ্দিনের সাথে। এনিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনা স্থলে ১৪৪ ধারা জারিও করা হয়েছে। এর জের ধরে গত বৃহস্পতিবার সকালে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ বাঁধে। এক পর্যায় উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধলে কামিল উদ্দিনের লোকজন রানা মিয়া ও চাচাত ভাই রানার উপর অর্তকিত ভাবে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। হামলায় গুরুত্বর আহত হন দু’রানাসহ আরো প্রায় ১২ ব্যাক্তি। আহতদের গুরুত্বর অবস্থায় গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তী করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মার যান রানা মিয়া ও চাচাত ভাই রানা। এনিয়ে এলাকায় থমথম বিরাজ করছে। ঘটনা স্থলে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।  তবে এলাকায় এখনও  উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মুহোর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে স্থানীয়রা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

শেয়ার করুন